আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিতর্কিত সামরিক আইন (মার্শাল ল) জারির মাধ্যমে দেশে চরম অরাজকতা ও জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টির দায়ে অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার ঠিক একদিন পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউন সুক ইয়োলকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় প্রদান করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক জি গুই-ইয়ন উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট অচল করার উদ্দেশ্যে ইউন যে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা ছিল স্পষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহ। মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কণ্ঠরোধ এবং আইনসভাকে দীর্ঘকাল অচল রাখতেই তিনি পার্লামেন্টে সেনা পাঠিয়েছিলেন।
নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ৬৫ বছর বয়সী সাবেক এই
> “দেশকে রক্ষা করার সংকল্প থাকলেও আমার অদূরদর্শিতার কারণে জনগণের যে ভোগান্তি ও হতাশা হয়েছে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি।”
>
ইউন স্বীকার করেছেন যে, তাঁর সামরিক শাসন জারির প্রচেষ্টায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি দাবি করেছেন, দেশের মঙ্গলের কথা ভেবেই তিনি সেই চরম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও ইউন এই রায়কে ‘মেনে নেওয়া কঠিন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি না, তা তাঁর আইনজীবী পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমান আইন অনুযায়ী, অন্তত ২০ বছর সাজা খাটার পর তিনি প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে টেলিভিশনে আকস্মিক ভাষণে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির’ দোহাই দিয়ে সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। কিন্তু সেই স্বৈরাচারী প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ঘোষণার মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে সমবেত হন এবং জরুরি ভোটের মাধ্যমে মার্শাল ল বাতিল করে দেন। সেই ঘটনার রেশ ধরেই অভিশংসিত হন ইউন এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দণ্ডিত হলেন।




















