যশোরের বাঘারপাড়ায় কথিত যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তদের একজন রবিউল ইসলাম রবিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অপর দুই অভিযুক্ত আনিসুর রহমান ও বিল্লাল হোসেন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার বাদী বাঘারপাড়ার গলগলিয়া গ্রামের সুকুমার গাইন। মামলায় রবিউল ইসলাম রবি, দোহাকুলা ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের আনিসুর রহমান ও কথিত যুবদল নেতা বিল্লাল হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুকুমার গাইন শারীরিকভাবে অসুস্থ। মূত্রথলিতে অস্ত্রোপচারের জন্য ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ জন্য তিনি প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার টাকার পাট বিক্রি করেন।
সুকুমারের অভিযোগ, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে রবিউল ইসলাম রবি, আনিসুর রহমান, বিল্লাল হোসেনসহ কয়েকজন তার বাড়িতে যান। তারা তার নাম ধরে ডাকতে থাকেন এবং দরজা খুলতে বলেন। দরজা না খোলায় তারা জানালার কাছে গিয়ে হুমকি দেন।
এজাহারে সুকুমার উল্লেখ করেন, রবিউল ইসলাম রবি তাকে বলেন, ‘তোরা জমিজমা বিক্রি করে ইন্ডিয়াতে চলে যাচ্ছিস। তোদের ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।’ টাকা না দিলে থানায় অভিযোগসহ নানা ধরনের ঝামেলায় ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সুকুমারের দাবি, ওই সময় আনিসুর, বিল্লালসহ অন্যরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। প্রাণভয়ে তিনি ও তার স্ত্রী শিখা গাইন পাট বিক্রির সাড়ে ১৩ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেন। পরে বাকি টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে তারা চলে যান বলে অভিযোগ করেন সুকুমার।
এর আগে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপস্থিত হয়ে সুকুমার গাইন চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরেন। সভায় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরেন।
পরে সভা থেকে বাঘারপাড়া থানাকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ জালাল আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় রবিউল ইসলাম রবিকে আটক করা হয়েছে। আনিসুরসহ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।’
অভিযুক্তদের যুবদলের পদধারী নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
বাঘারপাড়া পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হিরু আহমেদ বলেন, বাঘারপাড়া উপজেলা যুবদলের দুই শীর্ষ নেতা বর্তমানে উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বাবুল আক্তার ছাড়া বর্তমানে পদধারী আর কেউ নেই। তবে রবিউল ইসলাম রবি অন্যদের মতো সাবেক কমিটির সদস্য থাকতে পারেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল বলেন, বিষয়টি জেলা যুবদল গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। অভিযুক্তরা সংগঠনের সাবেক সদস্য। যুবদলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত অপর ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।




















