০১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইরানে বিস্তৃত হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরায়েল

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা দেখা দিচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ এখন বিস্ফোরণোন্মুখ অবস্থায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ওয়াশিংটন। এই অভিযানের লক্ষ্য ও সময়সূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষমাণ।

সিবিএস নিউজ ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী পারস্য উপসাগর ও এর আশপাশে ব্যাপক শক্তি বৃদ্ধি করেছে। নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল ছেড়ে পারস্য উপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী ও সহযোগী যুদ্ধজাহাজ। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, এটি কেবল কোনো ছোটখাটো আক্রমণ নয়, বরং কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী বিমান অভিযানের পরিকল্পনা।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎরতার সমান্তরালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর দেশের সেনাবাহিনীকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরায়েলি পত্রিকা ‘ইয়েডিওথ আহরোনোথ’ জানিয়েছে, দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার জন্য ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে তেল আবিব।
সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: যুদ্ধের কৌশল?
উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়া থেকে প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে জর্ডান ও ইরাক সীমান্তের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একে একটি ‘সুশৃঙ্খল রূপান্তর’ বলছে, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় যুদ্ধে মনোনিবেশ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণাম নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি এই পরিকল্পনাকে একটি বিপজ্জনক ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) অধীনে থাকা স্থাপনাগুলোতে কোনো হামলা হলে তা ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করবে এবং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট’ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সাগরের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি। এই সক্ষমতাকে নিজেদের অস্তিত্বের হুমকি মনে করে ইসরায়েল এখন যে কোনো মূল্যে তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে চাইছে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপের পথ পুরোপুরি খোলা রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সর্বাধিক পঠিত

বড় আঁচড়ায় পঞ্চম দিনের গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ইরানে বিস্তৃত হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরায়েল

আপডেট: ১২:০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা দেখা দিচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ এখন বিস্ফোরণোন্মুখ অবস্থায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে একটি বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ওয়াশিংটন। এই অভিযানের লক্ষ্য ও সময়সূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষমাণ।

সিবিএস নিউজ ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী পারস্য উপসাগর ও এর আশপাশে ব্যাপক শক্তি বৃদ্ধি করেছে। নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল ছেড়ে পারস্য উপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। সেখানে আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী ও সহযোগী যুদ্ধজাহাজ। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, এটি কেবল কোনো ছোটখাটো আক্রমণ নয়, বরং কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী বিমান অভিযানের পরিকল্পনা।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎরতার সমান্তরালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর দেশের সেনাবাহিনীকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরায়েলি পত্রিকা ‘ইয়েডিওথ আহরোনোথ’ জানিয়েছে, দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার জন্য ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে তেল আবিব।
সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: যুদ্ধের কৌশল?
উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়া থেকে প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে জর্ডান ও ইরাক সীমান্তের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আল-তানফ ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একে একটি ‘সুশৃঙ্খল রূপান্তর’ বলছে, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় যুদ্ধে মনোনিবেশ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিণাম নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি এই পরিকল্পনাকে একটি বিপজ্জনক ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) অধীনে থাকা স্থাপনাগুলোতে কোনো হামলা হলে তা ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করবে এবং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ‘মেরিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট’ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সাগরের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি। এই সক্ষমতাকে নিজেদের অস্তিত্বের হুমকি মনে করে ইসরায়েল এখন যে কোনো মূল্যে তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে চাইছে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপের পথ পুরোপুরি খোলা রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।