১০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অভয়নগরে প্রেমিকার বাড়ির সামনে নিজের শরীরে আগুন দিলেন যুবক,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৯

অভয়নগর (যশোর) ভালোবাসার দিনে এক ভয়াবহ ও আত্মঘাতী ঘটনার সাক্ষী হলো যশোরের অভয়নগর উপজেলা। ফেসবুকে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মান-অভিমান থেকে প্রেমিকার বাড়ির সামনে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন অন্তর বিশ্বাস (৩০) নামে এক যুবক। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ধোপাদী দক্ষিণপাড়া হাড়িভাঙ্গা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ অন্তর বিশ্বাস কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া গ্রামের সাগর বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভয়নগরের ধোপাদী গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে অন্তরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্ক নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় অন্তর কুষ্টিয়া থেকে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে অভয়নগরে আসেন। সেখানে প্রেমিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে চরম অপমান সইতে না পেরে ক্ষোভে ও অভিমানে সঙ্গে আনা পেট্রোল নিজের শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা তার শরীরে ছড়িয়ে পড়লে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পাশের একটি পুকুরে ফেলে আগুন নেভান।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের একাংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে এবং অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পুলিশের তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর অভয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আবেগতাড়িত হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা। তবে এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা বা কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা ঠুনকো আবেগ এবং পারিবারিক অসহনশীলতা কীভাবে একটি তরুণ প্রাণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক করুণ দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

সর্বাধিক পঠিত

ধানমন্ডি ৩২-এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঢাবি শিক্ষকসহ আটক ৫:

অভয়নগরে প্রেমিকার বাড়ির সামনে নিজের শরীরে আগুন দিলেন যুবক,

আপডেট: ০৭:০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অভয়নগর (যশোর) ভালোবাসার দিনে এক ভয়াবহ ও আত্মঘাতী ঘটনার সাক্ষী হলো যশোরের অভয়নগর উপজেলা। ফেসবুকে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মান-অভিমান থেকে প্রেমিকার বাড়ির সামনে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন অন্তর বিশ্বাস (৩০) নামে এক যুবক। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ধোপাদী দক্ষিণপাড়া হাড়িভাঙ্গা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ অন্তর বিশ্বাস কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া গ্রামের সাগর বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভয়নগরের ধোপাদী গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে অন্তরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্ক নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় অন্তর কুষ্টিয়া থেকে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে অভয়নগরে আসেন। সেখানে প্রেমিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে চরম অপমান সইতে না পেরে ক্ষোভে ও অভিমানে সঙ্গে আনা পেট্রোল নিজের শরীরে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা তার শরীরে ছড়িয়ে পড়লে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পাশের একটি পুকুরে ফেলে আগুন নেভান।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের একাংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে এবং অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পুলিশের তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর অভয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আবেগতাড়িত হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা। তবে এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা বা কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা ঠুনকো আবেগ এবং পারিবারিক অসহনশীলতা কীভাবে একটি তরুণ প্রাণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক করুণ দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।