আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত শনিবারের এই হামলায় আবাসিক এলাকা ও কৌশলগত পাহাড়ি অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তি কাগজে-কলমে কার্যকর থাকলেও বাস্তবে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুসমূহ
লেবাননের স্থানীয় মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী শনিবার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্টে আঘাত হানে:
* বেসলায়া, হুমিন আল-তাহতা এবং দেইর আল-জাহরান: এই তিন এলাকার মধ্যবর্তী অঞ্চলগুলোতে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।
* জাবাল আল-রিহান: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পাহাড়ি অঞ্চলের উঁচু জমিতে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
* মেইস আল-জাবাল: এখানে একটি ইসরায়েলি ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোন ব্যবহার করে একটি জনবহুল আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ভবনটি ধ্বংস হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বিবৃতিতে হামলার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা কেবল হিজবুল্লাহর সাথে যুক্ত সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং আবাসিক ভবন।
গত ২৭ নভেম্বর ২০২৪ থেকে মার্কিন মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি ভিন্ন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (UNIFIL) জানিয়েছে:
* চুক্তি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী এ পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশিবার নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
* দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের পাশাপাশি বেইরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, এই কথিত অস্ত্রবিরতি চলাকালীন সময়েই ইসরায়েলি হামলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে:
> “গত কয়েক মাসে প্রায় ৩৪০ জন নিহত এবং ৯৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে একটি বিশাল অংশ নারী ও শিশু।”
>




















