১০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বেনাপোল ট্রাজেডির এক যুগ: আজও কাটেনি ৯ শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুর শোক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:০০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেনাপোল আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি। বেনাপোলের ইতিহাসে এক বিষাদময় দিন। ঠিক ১২ বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের আর্তনাদ আর সহপাঠীদের শূন্যতা আজও সীমান্ত শহর বেনাপোলকে ভারাক্রান্ত করে তোলে।

২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা সফর শেষে মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে বাসে করে ফিরছিল শিক্ষার্থীরা। ফেরার পথে রাত ৮টার দিকে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ঝাউতলা কাঁদবিলা এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৯ শিক্ষার্থী না ফেরার দেশে চলে যায়। ওই দুর্ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আহত হয়েছিলেন অন্তত ৮০ জন।

বিগত বছরগুলোতে দিনটি স্মরণে বিদ্যালয়ে শোকসভা, মিলাদ মাহফিল ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করা হলেও এবার চিত্রটি ছিল ভিন্ন। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনী ব্যস্ততা ও নানা প্রতিকূলতার কারণে এ বছর বড় কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চোখে পড়েনি। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়েছে।

বেনাপোল পৌরসভা নিহত শিশুদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করলেও বর্তমানে সেটি অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি:
: দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার করা হোক।
: পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই শোকাবহ ইতিহাস তুলে ধরতে স্মৃতিস্তম্ভটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।
: এই দিনটি যেন আমাদের সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।
এক শোকার্ত অভিভাবকের আক্ষেপ: > “সন্তান হারানোর ১২ বছর পার হয়েছে, কিন্তু আমাদের হৃদয়ের ক্ষত এখনো শুকায়নি। শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়, শুধু চাওয়া—স্মৃতিগুলো যেন যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকে।”
১৫ ফেব্রুয়ারি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি বেনাপোলবাসীর হৃদয়ে চিরস্থায়ী এক বেদনার চিহ্ন। ৯টি কচি প্রাণের এই অকাল প্রস্থান আজও মানুষকে নিস্তব্ধ করে দেয়।

সর্বাধিক পঠিত

ধানমন্ডি ৩২-এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঢাবি শিক্ষকসহ আটক ৫:

বেনাপোল ট্রাজেডির এক যুগ: আজও কাটেনি ৯ শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুর শোক

আপডেট: ০৭:০০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বেনাপোল আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি। বেনাপোলের ইতিহাসে এক বিষাদময় দিন। ঠিক ১২ বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের আর্তনাদ আর সহপাঠীদের শূন্যতা আজও সীমান্ত শহর বেনাপোলকে ভারাক্রান্ত করে তোলে।

২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা সফর শেষে মেহেরপুরের মুজিবনগর থেকে বাসে করে ফিরছিল শিক্ষার্থীরা। ফেরার পথে রাত ৮টার দিকে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের ঝাউতলা কাঁদবিলা এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৯ শিক্ষার্থী না ফেরার দেশে চলে যায়। ওই দুর্ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ আহত হয়েছিলেন অন্তত ৮০ জন।

বিগত বছরগুলোতে দিনটি স্মরণে বিদ্যালয়ে শোকসভা, মিলাদ মাহফিল ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের আয়োজন করা হলেও এবার চিত্রটি ছিল ভিন্ন। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনী ব্যস্ততা ও নানা প্রতিকূলতার কারণে এ বছর বড় কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চোখে পড়েনি। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়েছে।

বেনাপোল পৌরসভা নিহত শিশুদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করলেও বর্তমানে সেটি অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি:
: দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার করা হোক।
: পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই শোকাবহ ইতিহাস তুলে ধরতে স্মৃতিস্তম্ভটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।
: এই দিনটি যেন আমাদের সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।
এক শোকার্ত অভিভাবকের আক্ষেপ: > “সন্তান হারানোর ১২ বছর পার হয়েছে, কিন্তু আমাদের হৃদয়ের ক্ষত এখনো শুকায়নি। শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়, শুধু চাওয়া—স্মৃতিগুলো যেন যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকে।”
১৫ ফেব্রুয়ারি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি বেনাপোলবাসীর হৃদয়ে চিরস্থায়ী এক বেদনার চিহ্ন। ৯টি কচি প্রাণের এই অকাল প্রস্থান আজও মানুষকে নিস্তব্ধ করে দেয়।