ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর অনুষ্ঠিত এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার ১৫১ জন নবনির্বাচিত প্রতিনিধি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে বসতে যাচ্ছেন।
এক নজরে আসন বিন্যাস (২৯৭ আসন)
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ও তার মিত্ররা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) | ২০৯ |
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | ৬৮ |
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) | ০৬ |
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস | ০২ |
অন্যান্য (গণসংহতি, গণঅধিকার, বিজেপি ও অন্যান্য) | ০৫ |
স্থগিত (শেরপুর-৩) | ০১ |
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল শীর্ষ নেতাদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জয়।
* তারেক রহমান (বিএনপি): প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ দুটি আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
* ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াত): জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এর আগে ২০০১ ও ২০১৮ সালে ব্যর্থ হলেও এবার ঢাকা-১৫ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
* নাহিদ ইসলাম (এনসিপি): জুলাই আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পা রাখছেন।
* নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ): ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
* জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন): দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে ‘মাথাল’ প্রতীকে লড়াই করে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
এবার ১৫১ জন সংসদ সদস্যই প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন, যা সংসদের মোট আসনের প্রায় অর্ধেক। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে অনেক তরুণ নেতা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন নেতৃত্বের সমাহার সংসদে গঠনমূলক আলোচনা এবং রাষ্ট্র সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তারুণ্যনির্ভর দলগুলোর অংশগ্রহণ সংসদকে আরও প্রাণবন্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





















