নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর যশোর শহরের ব্যস্ততম বড় বাজারের হাটচান্নী মার্কেটে শাড়ি ব্যবসার আড়ালে গড়ে তোলা একটি অবৈধ আতশবাজির গুদামে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে ডিবি পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকজাতীয় আতশবাজি জব্দ করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর নাম সিহাব মোল্লা। তিনি মার্কেটের নিচতলায় ‘সিহাব বস্ত্রালয়’ নামে শাড়ির দোকান চালালেও দ্বিতীয় তলায় অত্যন্ত গোপনে এই অবৈধ মজুত গড়ে তুলেছিলেন।
অভিযানের বিবরণ ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদ ছিল যে শাড়ি ব্যবসার আড়ালে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরক মজুত রয়েছে। এর ভিত্তিতে হাটচান্নী মার্কেটের দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ ৫ বস্তা এবং ৫ কার্টুন ভর্তি চকলেট বোমা, তারাবাজি, ও পটকাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি উদ্ধার করে।
অভিযানের সময় গুদামের মালিক সিহাব মোল্লাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন বন্ধ করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। জনবহুল মার্কেটের ভেতর এমন ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক মজুতের খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ীর অতীত ও বর্তমান স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিহাব মোল্লা একসময় ফুটপাতে চায়ের দোকান ও ভাজাপোড়া বিক্রি করতেন। হঠাৎ করেই তিনি শাড়ির বড় ব্যবসায় নামেন। তবে স্থানীয়দের ধারণা ছিল, এই কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ আতশবাজির কারবার চালিয়ে আসছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি পুলিশের এসআই শেখ আবু হাসান বলেন:
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এই যৌথ অভিযান চালাই। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী পলাতক থাকলেও তার গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আতশবাজি জব্দ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্ক্রিয়াধীন এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
আমার মন্তব্য জনবহুল একটি মার্কেটের ভেতর শাড়ি বা কাপড়ের মতো দাহ্য বস্তুর পাশে এমন বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো ছোট দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ড থেকে এখানে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত। পুলিশের এই তৎপরতা প্রশংসনীয়, তবে বাজারের অন্যান্য গুদামেও এমন অবৈধ কিছু আছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।





















