যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় নির্বাচনের এই বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়। সভায় জানানো হয়, ভোটগ্রহণের জন্য কেন্দ্র ও কক্ষগুলো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সংস্কার করে ভোটারদের যাতায়াতের উপযোগী করা হয়েছে। ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। ইতিমধ্যে ১৫ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সভায় জানান, এবারের নির্বাচন হবে নজিরবিহীন নিরপেক্ষ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে ৩ জন করে পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন করে অস্ত্রধারী পুলিশ নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ৭১ জন পুলিশ সদস্যের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ স্থাপন করা হয়েছে। ‘সুরক্ষা অ্যাপসের’ মাধ্যমে এই ফুটেজ সরাসরি তদারকি করা হবে, যাতে কোনো গোলযোগ হলে রিজার্ভ ফোর্স দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। এছাড়া নির্বাচনী মাঠে দুই শতাধিক স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় থাকবে।
যানবাহন ও চলাচলে বিধিনিষেধ
সভায় জানানো হয়, নির্বাচন অবাধ করতে কঠোর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে:
* মোটরসাইকেল: ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত (টানা ৭২ ঘণ্টা) জেলায় কোনো অনুমোদনহীন মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না।
* অন্যান্য যানবাহন: ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সকল যানবাহনের জন্য পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।
* ভ্রাম্যমাণ আদালত: ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট মাঠে সক্রিয় থাকবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচন নিয়ে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার রোধে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার জানিয়েছেন, সংবাদকর্মীদের পরিচয়পত্র ও যানবাহনের পাস আগামীকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
সভায় সেনাবাহিনীর উপঅধিনায়ক মেজর মাসুদ, এনএসআই-এর উপপরিচালক আবু তাহের মোহাম্মদ পারভেজ, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট সেফাউল হোসেন এবং র্যাব-৬-এর কোম্পানি অধিনায়ক এটিএম ফজলে রাব্বী প্রিন্সসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















