০১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

নির্বাচনকে পুঁজি করে সরব স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কোটি কোটি টাকার চালান জব্দ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৫১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৫৮

দেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রস্তুতির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সোনার চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজর যখন নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত, সেই সুযোগে হাজার হাজার কোটি টাকা লগ্নি করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচার জোরেশোরে শুরু করেছে রাঘব-বোয়াল শ্রেণির চক্রগুলো।
📉 স্থিতাবস্থা শেষে ফের সক্রিয় চক্র
গত বছর সরকার পতনের পর সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি চলমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মনোযোগ অন্য খাতে সরে যাওয়ায়, পুরোনো ও নতুন অনেক সিন্ডিকেট আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার ভারতীয় সীমান্ত কেন্দ্রিক এসব চক্র সোনা পাচারের জন্য যশোর অঞ্চলকে অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
📈 এক মাসে বিপুল পরিমাণ চালান জব্দ
বিগত কয়েক মাসে পাচার চেষ্টার সময় একাধিক বড় স্বর্ণের চালান আটক হয়েছে। শুধুমাত্র গত এক মাসে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) পাচার চেষ্টার সময় ৪টি চালান জব্দ করেছে।
* বিগত এক মাসে: ৪৯ বিজিবি ৪টি চালানসহ ১৫টিরও বেশি সোনার বার উদ্ধার করেছে।
* অন্যান্য জেলা: চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মহেশপুর ও বেনাপোল থেকে বিজিবি মোট ৭৭টি বার জব্দ করেছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি টাকারও বেশি।
আটককৃতদের মধ্যে পুরুষদের পাশাপাশি নারী পাচারকারী সদস্যও রয়েছে। গত মাসে সাতক্ষীরায় নাসরিন নাহার নামে এক নারী চোরাকারবারীর শরীর থেকে প্রায় ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের ছয়টি স্বর্ণের বার উদ্ধার হয়েছিল।
🕵️‍♂️ ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা
বারবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও বহনকারীদের আটক করা হলেও, নেপথ্যে থাকা রাঘব-বোয়াল শ্রেণির সিন্ডিকেট প্রধানরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। সূত্রের জোর দাবি, যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় এবং বহনকারীরা মুখ না খোলায় মূল হোতারা বিশাল অংকের টাকা লগ্নি করে চলেছে।
> সিআইডি যশোর জোনের ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি মন্ডল জানিয়েছেন, বেশিরভাগ স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় শুধু বহনকারীকেই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তার অধীনে কয়েকটি মামলা ব্যতিক্রম হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি ইতোমধ্যে কয়েকজন গডফাদারের নাম শনাক্ত করেছেন এবং প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের কাছে পৌঁছাতে চান।
>
📍 কেন এই রুট এত গুরুত্বপূর্ণ?
সিআইডি সূত্র অনুযায়ী, ভারতের সাথে সীমান্ত থাকা ৩২টি জেলার মধ্যে যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর এবং কুষ্টিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ এবং সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা খুব কাছে হওয়ায়, পাচারকারীরা এই রুট ব্যবহারে বেশি সক্রিয় থাকে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেপ্টেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী নিশ্চিত করেছেন যে, জব্দ হওয়া চালানগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে যশোর হয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। তিনি জানান, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও আভিযানিক কার্যক্রম সীমান্তে অব্যাহত থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবার যাত্রীবাহী বাস পদ্মায়, চালক-সহকারী উদ্ধার

নির্বাচনকে পুঁজি করে সরব স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কোটি কোটি টাকার চালান জব্দ

আপডেট: ০৩:৫১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

দেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রস্তুতির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সোনার চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজর যখন নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত, সেই সুযোগে হাজার হাজার কোটি টাকা লগ্নি করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচার জোরেশোরে শুরু করেছে রাঘব-বোয়াল শ্রেণির চক্রগুলো।
📉 স্থিতাবস্থা শেষে ফের সক্রিয় চক্র
গত বছর সরকার পতনের পর সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি চলমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মনোযোগ অন্য খাতে সরে যাওয়ায়, পুরোনো ও নতুন অনেক সিন্ডিকেট আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার ভারতীয় সীমান্ত কেন্দ্রিক এসব চক্র সোনা পাচারের জন্য যশোর অঞ্চলকে অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
📈 এক মাসে বিপুল পরিমাণ চালান জব্দ
বিগত কয়েক মাসে পাচার চেষ্টার সময় একাধিক বড় স্বর্ণের চালান আটক হয়েছে। শুধুমাত্র গত এক মাসে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) পাচার চেষ্টার সময় ৪টি চালান জব্দ করেছে।
* বিগত এক মাসে: ৪৯ বিজিবি ৪টি চালানসহ ১৫টিরও বেশি সোনার বার উদ্ধার করেছে।
* অন্যান্য জেলা: চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মহেশপুর ও বেনাপোল থেকে বিজিবি মোট ৭৭টি বার জব্দ করেছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি টাকারও বেশি।
আটককৃতদের মধ্যে পুরুষদের পাশাপাশি নারী পাচারকারী সদস্যও রয়েছে। গত মাসে সাতক্ষীরায় নাসরিন নাহার নামে এক নারী চোরাকারবারীর শরীর থেকে প্রায় ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের ছয়টি স্বর্ণের বার উদ্ধার হয়েছিল।
🕵️‍♂️ ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা
বারবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও বহনকারীদের আটক করা হলেও, নেপথ্যে থাকা রাঘব-বোয়াল শ্রেণির সিন্ডিকেট প্রধানরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। সূত্রের জোর দাবি, যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় এবং বহনকারীরা মুখ না খোলায় মূল হোতারা বিশাল অংকের টাকা লগ্নি করে চলেছে।
> সিআইডি যশোর জোনের ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি মন্ডল জানিয়েছেন, বেশিরভাগ স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় শুধু বহনকারীকেই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তার অধীনে কয়েকটি মামলা ব্যতিক্রম হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি ইতোমধ্যে কয়েকজন গডফাদারের নাম শনাক্ত করেছেন এবং প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের কাছে পৌঁছাতে চান।
>
📍 কেন এই রুট এত গুরুত্বপূর্ণ?
সিআইডি সূত্র অনুযায়ী, ভারতের সাথে সীমান্ত থাকা ৩২টি জেলার মধ্যে যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর এবং কুষ্টিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ এবং সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা খুব কাছে হওয়ায়, পাচারকারীরা এই রুট ব্যবহারে বেশি সক্রিয় থাকে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেপ্টেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী নিশ্চিত করেছেন যে, জব্দ হওয়া চালানগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে যশোর হয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। তিনি জানান, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও আভিযানিক কার্যক্রম সীমান্তে অব্যাহত থাকবে।