০১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মণিরামপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২৭:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৭৬

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিনা গ্রামে শিল্পী মল্লিক (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ কক্ষে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি পরকীয়ার জেরে আত্মহত্যা নাকি পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের পর হত্যা—তা নিয়ে স্বামীপক্ষ এবং গৃহবধূর পরিবারের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ উঠেছে।
স্বামীপক্ষের দাবি: পরকীয়ার জেরে আত্মহত্যা
স্বামীর পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শিল্পী মল্লিক প্রতিবেশী ইমন রায় নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
* ঘটনার সূত্রপাত: স্বামী রনি রায় (পিতা-মাধব রায়) তার বাড়ির সামনে চায়ের দোকান চালান। স্থানীয়রা ও রনির মা দীপ্ত রায় জানান, শুক্রবার রাতে রনি তার স্ত্রী শিল্পী ও ইমন রায়কে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন।
* দ্বন্দ্ব: এরপর রনি ইমনকে মারধর করে তার মোবাইল কেড়ে নেন এবং শিল্পীকেও বকাবকি ও মারধর করেন।
* আত্মহত্যা: স্বামীপক্ষ দাবি করেছে, এই ঘটনার জেরে এবং শ্বশুরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর শিল্পী নিরবতা পালন করতে থাকেন। রোববার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা দেওয়ার কথা বলে নিজ কক্ষে গিয়ে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পিতা-মাতার দাবি: শ্বাশুড়ীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় হত্যা
তবে শিল্পীর পিতা-মাতা ও ভাই এই আত্মহত্যার দাবি মানতে নারাজ। তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ করেছেন।
* পরিবারের অভিযোগ: শিল্পীর পিতা অনন্ত মল্লিক, মাতা লিলি মল্লিক ও ভাই মহিত মল্লিকের দাবি—শিল্পী তার শ্বাশুড়ী দীপ্ত রায়-এর প্রতিবেশী গণেশ ডাক্তার নামের এক চিরকুমারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়ার প্রতিবাদ করতেন।
* নির্যাতন: এই প্রতিবাদ করার কারণেই স্বামী রনি ও শ্বাশুড়ী দীপ্ত রায় বিয়ের পর থেকেই শিল্পীকে নির্যাতন করতেন।
* হত্যার প্রমাণ: তারা বলেন, শিল্পীর গলায় ও শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাই স্বামী রনি ও শ্বাশুড়ী দীপ্ত রায় শ্বাসরোধ করে শিল্পীকে হত্যা করেছেন। তারা এই হত্যা ধামাচাপা দিতে শিল্পীর নামে পরকীয়ার অপবাদ দিচ্ছেন।
* বিচার দাবি: শিল্পীর পরিবার এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
> উল্লেখ্য, পরকীয়ায় অভিযুক্ত ইমন রায় এবং ডা. গণেশ—উভয়েই ঘটনার পর থেকে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
>
স্থানীয় ও পুলিশের ভূমিকা
স্থানীয় ইউপি সদস্য দীপক কুমার রায় এবং দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজী আলতাফ হোসেন অবশ্য প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, পরকীয়ার জেরেই গৃহবধূ শিল্পী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানিয়েছেন:
* খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
* প্রাথমিকভাবে স্বামী রনি রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
* ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবার যাত্রীবাহী বাস পদ্মায়, চালক-সহকারী উদ্ধার

মণিরামপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট: ০৮:২৭:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিনা গ্রামে শিল্পী মল্লিক (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ কক্ষে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি পরকীয়ার জেরে আত্মহত্যা নাকি পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের পর হত্যা—তা নিয়ে স্বামীপক্ষ এবং গৃহবধূর পরিবারের মধ্যে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ উঠেছে।
স্বামীপক্ষের দাবি: পরকীয়ার জেরে আত্মহত্যা
স্বামীর পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শিল্পী মল্লিক প্রতিবেশী ইমন রায় নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
* ঘটনার সূত্রপাত: স্বামী রনি রায় (পিতা-মাধব রায়) তার বাড়ির সামনে চায়ের দোকান চালান। স্থানীয়রা ও রনির মা দীপ্ত রায় জানান, শুক্রবার রাতে রনি তার স্ত্রী শিল্পী ও ইমন রায়কে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন।
* দ্বন্দ্ব: এরপর রনি ইমনকে মারধর করে তার মোবাইল কেড়ে নেন এবং শিল্পীকেও বকাবকি ও মারধর করেন।
* আত্মহত্যা: স্বামীপক্ষ দাবি করেছে, এই ঘটনার জেরে এবং শ্বশুরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর শিল্পী নিরবতা পালন করতে থাকেন। রোববার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা দেওয়ার কথা বলে নিজ কক্ষে গিয়ে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পিতা-মাতার দাবি: শ্বাশুড়ীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় হত্যা
তবে শিল্পীর পিতা-মাতা ও ভাই এই আত্মহত্যার দাবি মানতে নারাজ। তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ করেছেন।
* পরিবারের অভিযোগ: শিল্পীর পিতা অনন্ত মল্লিক, মাতা লিলি মল্লিক ও ভাই মহিত মল্লিকের দাবি—শিল্পী তার শ্বাশুড়ী দীপ্ত রায়-এর প্রতিবেশী গণেশ ডাক্তার নামের এক চিরকুমারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরকীয়ার প্রতিবাদ করতেন।
* নির্যাতন: এই প্রতিবাদ করার কারণেই স্বামী রনি ও শ্বাশুড়ী দীপ্ত রায় বিয়ের পর থেকেই শিল্পীকে নির্যাতন করতেন।
* হত্যার প্রমাণ: তারা বলেন, শিল্পীর গলায় ও শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাই স্বামী রনি ও শ্বাশুড়ী দীপ্ত রায় শ্বাসরোধ করে শিল্পীকে হত্যা করেছেন। তারা এই হত্যা ধামাচাপা দিতে শিল্পীর নামে পরকীয়ার অপবাদ দিচ্ছেন।
* বিচার দাবি: শিল্পীর পরিবার এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
> উল্লেখ্য, পরকীয়ায় অভিযুক্ত ইমন রায় এবং ডা. গণেশ—উভয়েই ঘটনার পর থেকে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
>
স্থানীয় ও পুলিশের ভূমিকা
স্থানীয় ইউপি সদস্য দীপক কুমার রায় এবং দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গাজী আলতাফ হোসেন অবশ্য প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, পরকীয়ার জেরেই গৃহবধূ শিল্পী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানিয়েছেন:
* খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
* প্রাথমিকভাবে স্বামী রনি রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
* ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।