০১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

যশোরের বাঘারপাড়ায় ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসা: পাইলস অপারেশন করে নারীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬৩৩

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা হাসপাতাল রোডে একটি ফার্মেসিতে চেম্বার খুলে প্রভাত কুমার সমাদ্দার নামে এক ভুয়া ডাক্তার দীর্ঘদিন ধরে পাইলস, ফিস্টুলাসহ স্পর্শকাতর অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এই অপচিকিৎসার শিকার হয়ে সেলিনা বেগম নামে এক নারী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ এবং মৃত্যুশয্যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং তাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন।
ফার্মেসিতে চেম্বার, চলছে জটিল সার্জারি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাত কুমার সমাদ্দার বাঘারপাড়া উপজেলা হাসপাতাল রোডে (ইসলামী ব্যাংকের পূর্ব পাশে) ‘শুভদ্রা মেডিকেল হল’ নামের একটি ফার্মেসির ভেতরেই চেম্বার খুলেছেন।
* পরিচয় ব্যবহার: তিনি তার নামের আগে ‘লোকাল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং (ঢাকা)’ ডিগ্রি ব্যবহার করেন, যা শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার অনুমতি দেয়।
* সার্জারি: এই সাধারণ ডিগ্রির সীমা লঙ্ঘন করে তিনি নিয়মিতভাবে জটিল শল্যচিকিৎসা, যেমন—পাইলস, ফিস্টুলা ও হেমোরয়েডের অপারেশন করছেন।
* একাই সব কাজ: তিনি নিজেই ডাক্তার, নিজেই সহকারী এবং নিজেই ওষুধ বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন।
ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের করুণ পরিণতি
চৌগাছা উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগম স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে প্রভাত কুমারের কাছে যান।
* অপারেশন: গত ১৬ অক্টোবর প্রভাত নিজেকে ‘বিশেষজ্ঞ ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে সেলিনা বেগমের পাইলস অপারেশন করেন এবং তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন।
* শারীরিক অবনতি: অপারেশনের পর থেকেই সেলিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
* ভুয়া ডাক্তারের আশ্বাস: একাধিকবার প্রভাত কুমারের কাছে গেলে তিনি আরও টাকা দাবি করেন এবং ওষুধ খেলে ভালো হয়ে যাবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দেন।
* বিশেষজ্ঞের মত: পরে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে জানা যায়, অপারেশনের সময় সেলিনা বেগমের মলদ্বার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় অর্ধলাখ টাকা খরচ করেও তিনি সুস্থ হতে পারেননি।
দালাল চক্র ও ডাক্তারের বক্তব্য
অভিযোগ উঠেছে, প্রভাত কুমার বাঘারপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই দালালরা গ্রামীণ এবং অসচেতন রোগীদের প্রলুব্ধ করে তার কাছে নিয়ে আসে। বিনিময়ে দালালরা প্রতি রোগীর জন্য তিন হাজার টাকা কমিশন পায়।
এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আসাদুজ্জামান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
> “পাইলসসহ যেকোনো শল্যচিকিৎসা একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত ও নিবন্ধিত চিকিৎসকরাই করতে পারেন। ভুয়া ডাক্তারদের হাতে এসব অপারেশন করালে জীবনহানির চরম ঝুঁকি থাকে।”
>
যোগাযোগ করা হলে প্রভাত কুমার সমাদ্দার তার সার্জারি করার অনুমতি নেই বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, ‘চাঁদসি মতে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি, তাই করতে পারি।’

সর্বাধিক পঠিত

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবার যাত্রীবাহী বাস পদ্মায়, চালক-সহকারী উদ্ধার

যশোরের বাঘারপাড়ায় ভুয়া ডাক্তারের অপচিকিৎসা: পাইলস অপারেশন করে নারীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট: ০৮:২১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা হাসপাতাল রোডে একটি ফার্মেসিতে চেম্বার খুলে প্রভাত কুমার সমাদ্দার নামে এক ভুয়া ডাক্তার দীর্ঘদিন ধরে পাইলস, ফিস্টুলাসহ স্পর্শকাতর অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এই অপচিকিৎসার শিকার হয়ে সেলিনা বেগম নামে এক নারী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ এবং মৃত্যুশয্যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং তাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন।
ফার্মেসিতে চেম্বার, চলছে জটিল সার্জারি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাত কুমার সমাদ্দার বাঘারপাড়া উপজেলা হাসপাতাল রোডে (ইসলামী ব্যাংকের পূর্ব পাশে) ‘শুভদ্রা মেডিকেল হল’ নামের একটি ফার্মেসির ভেতরেই চেম্বার খুলেছেন।
* পরিচয় ব্যবহার: তিনি তার নামের আগে ‘লোকাল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং (ঢাকা)’ ডিগ্রি ব্যবহার করেন, যা শুধু প্রাথমিক চিকিৎসার অনুমতি দেয়।
* সার্জারি: এই সাধারণ ডিগ্রির সীমা লঙ্ঘন করে তিনি নিয়মিতভাবে জটিল শল্যচিকিৎসা, যেমন—পাইলস, ফিস্টুলা ও হেমোরয়েডের অপারেশন করছেন।
* একাই সব কাজ: তিনি নিজেই ডাক্তার, নিজেই সহকারী এবং নিজেই ওষুধ বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন।
ভুক্তভোগী সেলিনা বেগমের করুণ পরিণতি
চৌগাছা উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগম স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে প্রভাত কুমারের কাছে যান।
* অপারেশন: গত ১৬ অক্টোবর প্রভাত নিজেকে ‘বিশেষজ্ঞ ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে সেলিনা বেগমের পাইলস অপারেশন করেন এবং তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন।
* শারীরিক অবনতি: অপারেশনের পর থেকেই সেলিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
* ভুয়া ডাক্তারের আশ্বাস: একাধিকবার প্রভাত কুমারের কাছে গেলে তিনি আরও টাকা দাবি করেন এবং ওষুধ খেলে ভালো হয়ে যাবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দেন।
* বিশেষজ্ঞের মত: পরে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে জানা যায়, অপারেশনের সময় সেলিনা বেগমের মলদ্বার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় অর্ধলাখ টাকা খরচ করেও তিনি সুস্থ হতে পারেননি।
দালাল চক্র ও ডাক্তারের বক্তব্য
অভিযোগ উঠেছে, প্রভাত কুমার বাঘারপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই দালালরা গ্রামীণ এবং অসচেতন রোগীদের প্রলুব্ধ করে তার কাছে নিয়ে আসে। বিনিময়ে দালালরা প্রতি রোগীর জন্য তিন হাজার টাকা কমিশন পায়।
এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আসাদুজ্জামান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
> “পাইলসসহ যেকোনো শল্যচিকিৎসা একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত ও নিবন্ধিত চিকিৎসকরাই করতে পারেন। ভুয়া ডাক্তারদের হাতে এসব অপারেশন করালে জীবনহানির চরম ঝুঁকি থাকে।”
>
যোগাযোগ করা হলে প্রভাত কুমার সমাদ্দার তার সার্জারি করার অনুমতি নেই বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, ‘চাঁদসি মতে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি, তাই করতে পারি।’