০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

স্ত্রী-সন্তান থাকার তথ্য গোপন করে ফায়ার সার্ভিসে চাকরির অভিযোগ রুবেলের বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫০৯

যশোর প্রতিনিধি:

যশোরে স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও বৈবাহিক তথ্য গোপন করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে চালক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রুবেল হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর অবিবাহিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও রুবেলের স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

রুবেল হোসেন যশোর সদর উপজেলার কামারগন্যা গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে।

জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল চালক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির ‘চ’ নম্বর শর্তে প্রার্থীদের অবিবাহিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এই তথ্য গোপন করে চাকরি নিয়েছেন রুবেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে পারিবারিকভাবে জুঁই নামে এক নারীকে বিয়ে করেন রুবেল। তাঁদের সংসারে জান্নাতি নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় দেড় বছর বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। চাকরিতে যোগদানের আগে রুবেল যশোর শহরের সিটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে কামারগন্যা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রুবেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বিবাহিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহাবার হোসেন বলেন, রুবেলকে তিনি চেনেন। তাঁর বাবার নাম আব্দুল্লাহ এবং শ্বশুরের নাম মারজান। রুবেল বিবাহিত বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য শিখা বেগম জানান, রুবেল বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি রুবেলকে চারিত্রিক ও নাগরিক সনদ দিয়েছেন। তবে অবিবাহিত মর্মে কোনো সনদ দিয়েছিলেন কি না, তা তাঁর মনে নেই।

এ ছাড়া রুবেলের চাচাশ্বশুর লিটন ও স্থানীয় চা দোকানি সোহাগও তাঁর বিবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রুবেলের বাবা আব্দুল্লাহও ছেলের বিয়ে ও কন্যাসন্তান থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রুবেল বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাঞ্চল ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁর ব্যাজ নম্বর ঢাকা বক্ষ নং-১৭ বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে রুবেলের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভকারী নিজেকে রুবেলের ছোট ভাই পরিচয় দেন। রুবেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য নম্বর চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে এ বিষয়ে রুবেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, ‘অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। কারও ক্ষেত্রে যদি এর ব্যত্যয় ঘটে এবং কেউ অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ

স্ত্রী-সন্তান থাকার তথ্য গোপন করে ফায়ার সার্ভিসে চাকরির অভিযোগ রুবেলের বিরুদ্ধে

আপডেট: ১২:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যশোর প্রতিনিধি:

যশোরে স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও বৈবাহিক তথ্য গোপন করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে চালক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রুবেল হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর অবিবাহিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও রুবেলের স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

রুবেল হোসেন যশোর সদর উপজেলার কামারগন্যা গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে।

জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল চালক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির ‘চ’ নম্বর শর্তে প্রার্থীদের অবিবাহিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এই তথ্য গোপন করে চাকরি নিয়েছেন রুবেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে পারিবারিকভাবে জুঁই নামে এক নারীকে বিয়ে করেন রুবেল। তাঁদের সংসারে জান্নাতি নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় দেড় বছর বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। চাকরিতে যোগদানের আগে রুবেল যশোর শহরের সিটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে কামারগন্যা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রুবেলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বিবাহিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহাবার হোসেন বলেন, রুবেলকে তিনি চেনেন। তাঁর বাবার নাম আব্দুল্লাহ এবং শ্বশুরের নাম মারজান। রুবেল বিবাহিত বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য শিখা বেগম জানান, রুবেল বিবাহিত এবং তাঁর সন্তান রয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি রুবেলকে চারিত্রিক ও নাগরিক সনদ দিয়েছেন। তবে অবিবাহিত মর্মে কোনো সনদ দিয়েছিলেন কি না, তা তাঁর মনে নেই।

এ ছাড়া রুবেলের চাচাশ্বশুর লিটন ও স্থানীয় চা দোকানি সোহাগও তাঁর বিবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রুবেলের বাবা আব্দুল্লাহও ছেলের বিয়ে ও কন্যাসন্তান থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রুবেল বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাঞ্চল ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁর ব্যাজ নম্বর ঢাকা বক্ষ নং-১৭ বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে রুবেলের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভকারী নিজেকে রুবেলের ছোট ভাই পরিচয় দেন। রুবেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য নম্বর চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে এ বিষয়ে রুবেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, ‘অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। কারও ক্ষেত্রে যদি এর ব্যত্যয় ঘটে এবং কেউ অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’