১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সানায় হামলা হলে সৌদির তিন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাতের হুমকি হুতিদের

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৪৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৪

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পরিবহন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের ঘোষিত সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিরা জানায়, সানায় হামলা হলে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত আরামকোর প্রধান কার্যালয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত আরামকোর একটি শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যেকোনো তেল স্থাপনাকে তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে সৌদি তেল স্থাপনাগুলোতে কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকা থেকে দূরে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে গোষ্ঠীটি। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় বিমান সংস্থা, যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সানাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকালে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানীর আল-সাবাহা এলাকায় অবস্থিত ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কেন্দ্রীয় স্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে সাধারণ নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে প্রাণহানি এড়াতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এরপরই পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয় হুতিরা। তাদের বক্তব্য, সানায় হামলা হলে সৌদি আরবের ঘোষিত স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন এই হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করায় তেল সরবরাহ, বিমান চলাচল এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে হুতিদের ঘোষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখানে নিশ্চিত করা হয়নি। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামরিক পদক্ষেপ এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির বাস্তবায়নের ওপর।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে যুবককে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল, স্বর্ণের চেন ও টাকা লুটের অভিযোগ

সানায় হামলা হলে সৌদির তিন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাতের হুমকি হুতিদের

আপডেট: ০৮:৪৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পরিবহন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের ঘোষিত সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিরা জানায়, সানায় হামলা হলে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত আরামকোর প্রধান কার্যালয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত আরামকোর একটি শোধনাগারকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের যেকোনো তেল স্থাপনাকে তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে সৌদি তেল স্থাপনাগুলোতে কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকা থেকে দূরে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে গোষ্ঠীটি। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় বিমান সংস্থা, যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সানাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকালে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানীর আল-সাবাহা এলাকায় অবস্থিত ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কেন্দ্রীয় স্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে সাধারণ নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগে প্রাণহানি এড়াতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এরপরই পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয় হুতিরা। তাদের বক্তব্য, সানায় হামলা হলে সৌদি আরবের ঘোষিত স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে নতুন এই হুমকি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করায় তেল সরবরাহ, বিমান চলাচল এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে হুতিদের ঘোষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখানে নিশ্চিত করা হয়নি। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামরিক পদক্ষেপ এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির বাস্তবায়নের ওপর।