১১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, মাসে কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে দালালদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, দালাল ছাড়া অনেক সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং নানা অজুহাতে আবেদনকারীদের হয়রানি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার নামে দালালেরা লাইসেন্সপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, কখনো ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। ডোপ টেস্ট, ভাইভা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার মতো প্রক্রিয়াতেও ‘ম্যানেজ’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাশাপাশি বিআরটিএর ফিটনেস সনদ, গাড়ির মালিকানা বদল, রোড পারমিট এবং চোরাই গাড়ির জাল কাগজ তৈরিসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, মাসে ২০ কর্মদিবসে এসব খাত থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দালালদের কমিশন বাদ দেওয়ার পর এর প্রায় ৭০ শতাংশ সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শকের কাছে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ পদমর্যাদা অনুযায়ী অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ হয়।

তবে এসব অর্থ লেনদেন ও ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিআরটিএ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর বিপরীতে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ৮ হাজার ২৫০টির। সংশ্লিষ্টদের মতে, যানবাহনের সংখ্যা ও লাইসেন্সের এই বড় ব্যবধান নিয়মিত তদারকি ও নজরদারির ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শকের হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

সচেতন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, নিয়মিত আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হলে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম আকস্মিক অভিযান চালালে অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের হাতেনাতে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।

তাঁদের মতে, শুধু দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। দালালদের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় বিআরটিএ সেবায় হয়রানি এবং অদক্ষ চালকের কারণে সড়কে ঝুঁকি—দুই সমস্যাই অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

দাফনেও থামেনি সম্পত্তির বিরোধ, কারবালা কবরস্থানে স্বজনদের হাতাহাতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, মাসে কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের দাবি

আপডেট: ০৯:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে দালালদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, দালাল ছাড়া অনেক সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং নানা অজুহাতে আবেদনকারীদের হয়রানি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার নামে দালালেরা লাইসেন্সপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, কখনো ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। ডোপ টেস্ট, ভাইভা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার মতো প্রক্রিয়াতেও ‘ম্যানেজ’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাশাপাশি বিআরটিএর ফিটনেস সনদ, গাড়ির মালিকানা বদল, রোড পারমিট এবং চোরাই গাড়ির জাল কাগজ তৈরিসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, মাসে ২০ কর্মদিবসে এসব খাত থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দালালদের কমিশন বাদ দেওয়ার পর এর প্রায় ৭০ শতাংশ সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শকের কাছে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ পদমর্যাদা অনুযায়ী অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ হয়।

তবে এসব অর্থ লেনদেন ও ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিআরটিএ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর বিপরীতে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ৮ হাজার ২৫০টির। সংশ্লিষ্টদের মতে, যানবাহনের সংখ্যা ও লাইসেন্সের এই বড় ব্যবধান নিয়মিত তদারকি ও নজরদারির ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শকের হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

সচেতন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, নিয়মিত আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হলে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম আকস্মিক অভিযান চালালে অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের হাতেনাতে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।

তাঁদের মতে, শুধু দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। দালালদের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় বিআরটিএ সেবায় হয়রানি এবং অদক্ষ চালকের কারণে সড়কে ঝুঁকি—দুই সমস্যাই অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।