০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৯

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের পর তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীর চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকায় লাগেজ সংগ্রহে বিলম্ব হয়। এ নিয়ে সেখানে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া এবং মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই ঘটনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও এজাহারে রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহযোগী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে বাধা দিলে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে থাকা জমজমের পানির বোতল ফেলে দেওয়া এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, হুমকি এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি বিমানবন্দর থানার মামলা নম্বর ৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ডিবি। পরে শুক্রবার বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হবে। এরপর মামলার নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হতে পারে।

এদিকে গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিওবার্তায় আখতারুজ্জামান বক্তব্য দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিমানবন্দরের ঘটনার অভিযোগ নিয়ে তার পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য বা অভিযোগ অস্বীকারের বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

আইনগত অবস্থান: মামলায় আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত

দাফনেও থামেনি সম্পত্তির বিরোধ, কারবালা কবরস্থানে স্বজনদের হাতাহাতি

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট: ০৯:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের পর তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা ঢাকায় পৌঁছান। যাত্রীর চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকায় লাগেজ সংগ্রহে বিলম্ব হয়। এ নিয়ে সেখানে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া এবং মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই ঘটনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও এজাহারে রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহযোগী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে বাধা দিলে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে থাকা জমজমের পানির বোতল ফেলে দেওয়া এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, হুমকি এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি বিমানবন্দর থানার মামলা নম্বর ৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ডিবি। পরে শুক্রবার বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হবে। এরপর মামলার নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হতে পারে।

এদিকে গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিওবার্তায় আখতারুজ্জামান বক্তব্য দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিমানবন্দরের ঘটনার অভিযোগ নিয়ে তার পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য বা অভিযোগ অস্বীকারের বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

আইনগত অবস্থান: মামলায় আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।