নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নামজারি, জমাভাগ ও মিস কেস বা বিবিধ মামলার শুনানিসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ বা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী।
অভিযোগকারীদের দাবি, অফিসের কয়েকজন কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাইল আটকে রাখা, শুনানি বিলম্বিত করা এবং অবৈধ দখলদারদের পক্ষে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এতে ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে অফিসের পিয়ন হাবিব, কানুনগো হাবিবুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক/নাজির আরিফুল ইসলাম, সাবেক সার্ভেয়ার আফজাল হোসেন সবুজ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাবিব নামে একজন দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মী ফাইলের কাজে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার মাধ্যমে ফাইলের কাজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং প্রতিটি ফাইলের বিপরীতে ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা ‘এলএ ফি’ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তির মাধ্যমে ফাইল না দিলে অনেক সময় তা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর টেবিল পর্যন্ত পৌঁছায় না। ফলে নামজারি, জমাভাগ কিংবা মিস কেসের মতো সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সেবাপ্রত্যাশীদের। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ভূমি অফিসে সরকারি সেবা পেতে কোনো ধরনের অনিয়ম, হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নরসিংদী জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




















