নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিটি ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অন্তত শতকোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ, মহানগর দক্ষিণের কর্মীসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ দাবি করেন।
নুরুল হক নুর বলেন, শুধু একজন নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের তথাকথিত ছাত্র উপদেষ্টাদের প্রত্যেককে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা হলে তাদের বিরুদ্ধে অন্তত শতকোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা ছিল, তা বাস্তবে সম্ভব হয়নি। এর জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ, বিশেষ করে ছাত্র উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নুর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে দল-মতনির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ব্যাপক সমর্থন তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এসব ছাত্র উপদেষ্টা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে বিপ্লবের নাম ব্যবহার করে তারা ফ্যাসিবাদী ধাঁচের কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন সুবিধাবাদী মহলের সঙ্গে আঁতাত করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, ছাত্র উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ডের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়াও সঠিক পথে এগোতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, এ সময়ে তার বিরুদ্ধে যত সমালোচনাই হোক, কেউ নির্দিষ্টভাবে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারবেন না। কেউ তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে তিনি নিজে থেকেই দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।
নুরুল হক নুরের এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ছাত্র উপদেষ্টাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার করা দুর্নীতির অভিযোগগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের বিষয়।
প্রসঙ্গত, একই সময়ে পল্লবীতে আমিনুল হকের সমর্থনে বিএনপির একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।




















