বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক থাকাকালে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মোহাম্মদ জমির হোসেনের পদোন্নতি ও পরবর্তী পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক হিসেবে যশোর সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকা জেলা সার্কেল (ইকুরিয়া)-এ মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দালালদের সঙ্গে অনৈতিক যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে সাময়িক বরখাস্ত ও বদলির আদেশ হলেও তিনি পদোন্নতি পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসেন।
জানা যায়, বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যালয়কে দালালমুক্ত রাখতে ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দালাল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পরিপত্র জারি করা হয়। এর কিছুদিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা জেলা সার্কেল (ইকুরিয়া) এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অভিযানে গাবতলী বিআরটিসি বাস ডিপোস্থ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে কয়েকজন দালালকে আটক করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী তদন্তে মোটরযান পরিদর্শক জমির হোসেনের সঙ্গে ওই দালালদের যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ মার্চ ২০২৫ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে ঢাকা থেকে বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার পদোন্নতির পথ তৈরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার অভিযোগও করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে জমির হোসেন পদোন্নতি পেয়ে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক হিসেবে যশোর সার্কেলে দায়িত্ব পান। বর্তমানে যশোরের পাশাপাশি সাতক্ষীরা সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিটসংক্রান্ত কাজে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার অধীনস্থ কিছু কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।
জমির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পদোন্নতি নিয়ে বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া, সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি নথিভিত্তিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তার বিরুদ্ধেও ওঠা প্রশ্নের অবসান হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের নথি, বিভাগীয় তদন্তের ফলাফল এবং পদোন্নতি ও পদায়নের প্রক্রিয়া যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।




















