১২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ, ব্যাগেজ সিন্ডিকেটে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৫

যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে ব্যাগেজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উচ্চ শুল্কযুক্ত কসমেটিকস, শাড়ি, থ্রি-পিস, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বেনাপোল ইমিগ্রেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেটকে সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উদ্ভব চন্দ্রপালের তত্ত্বাবধানে এবং ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা সিপাহী জাকারিয়ার কথিত ‘গ্রিন সিগন্যালের’ মাধ্যমে পণ্যবাহী যাত্রীরা তল্লাশি এড়িয়ে ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে বের হয়ে যান। ব্যাগেজপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইমিগ্রেশন সূত্রের দাবি, প্রতিদিন কয়েকশ ভারতীয় বিজনেস ভিসাধারী যাত্রী বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাদের অনেকের ট্রলি ও ব্যাগে বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস, ফেসওয়াশ, শাড়ি, থ্রি-পিস, মোবাইল ফোন, চকলেট ও তৈরি পোশাক থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো যাত্রীর ট্রলিতে ৮০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত ফেসওয়াশ, একাধিক মোবাইল ফোন কিংবা ৮০ থেকে ১০০ পিস শাড়ি-থ্রি-পিস থাকে। এসব পণ্য বহনকারী যাত্রীরা নির্দিষ্ট সংকেত পাওয়ার পর দ্রুত তল্লাশি লাইন পার হয়ে বেরিয়ে যান বলে সূত্রের দাবি।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, ব্যাগেজপ্রতি দাবিকৃত টাকা দিতে না চাইলে পণ্য ‘ডিএম’ বা আটক করা হয়। আবার কখনো আটক করা পণ্য অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাগেজের মাধ্যমে বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ করায় বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

সূত্রের দাবি, ভারতীয় কিছু বিজনেস ভিসাধারী নিয়মিত বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তারা সকালে বাংলাদেশে এসে পণ্য নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ভারতে ফিরে যান।

তাদের অনেকেই পণ্য বহনকারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে। কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলি ও ব্যাগ বহনের বিনিময়ে তারা কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পান। তবে তাদের বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্থলপথে একজন যাত্রী একটি পঞ্জিকাবর্ষে বা বছরে সর্বোচ্চ তিনবার ৪০০ মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য শুল্ক-কর সুবিধায় আনতে পারেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু যাত্রী নিয়মিত সপ্তাহে বা মাসে একাধিকবার বাংলাদেশে এসে বাণিজ্যিক পরিমাণে পণ্য নিয়ে প্রবেশ করছেন। কয়েক ঘণ্টা পর আবার ভারতে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

এতে ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহারের পাশাপাশি সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বাজারে ভারতীয় পণ্য, বৈধ আমদানি কম

বেনাপোলের ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস ও বিভিন্ন পণ্য যশোরসহ আশপাশের জেলার বাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এসব পণ্যের বৈধ আমদানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

যশোরের আমদানিকারক তৌফিক জানান, শুল্ক ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে বৈধ আমদানির পরিবর্তে ক্যারিংয়ের মাধ্যমে পণ্য আনছেন। তাঁর দাবি, বৈধভাবে কসমেটিকস আমদানিতে কাস্টমস ডিউটির পাশাপাশি বিএসটিআইসহ বিভিন্ন খরচ থাকায় ব্যয় অনেক বেড়ে যায়।

অ-পাসপোর্ট যাত্রীদের প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন

স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইমিগ্রেশন এলাকায় কিছু অ-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি প্রবেশ করে ব্যাগেজ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছেন। বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তারা ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এলাকায় ঢুকে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মকর্তা বলেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে চোরাচালান ও শুল্কফাঁকির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কর্মকর্তাদের বাধা দিলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন উদ্ভব চন্দ্রপাল

অভিযোগের বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘আমি ইমিগ্রেশনে নেই।’ পরে তিনি ইমিগ্রেশনে থাকার কথা স্বীকার করেন। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

অভিযোগে নাম আসা সিপাহী জাকারিয়া ও সিপাহী রায়হানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বিজিবির দাবি, চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান চলছে

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি দিন-রাত কাজ করছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য আটক করা হচ্ছে এবং টাস্কফোর্সের মাধ্যমেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার রাজস্ব হারায়। এ প্রবণতা ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযান চালিয়ে ওই দিনও প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন পণ্য আটক করা হয়েছে।

তবে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ-বাণিজ্য ও ব্যাগেজ সিন্ডিকেটকে সহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ, ব্যাগেজ সিন্ডিকেটে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির দাবি

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ, ব্যাগেজ সিন্ডিকেটে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির দাবি

আপডেট: ১২:০০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে ব্যাগেজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উচ্চ শুল্কযুক্ত কসমেটিকস, শাড়ি, থ্রি-পিস, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বেনাপোল ইমিগ্রেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেটকে সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উদ্ভব চন্দ্রপালের তত্ত্বাবধানে এবং ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা সিপাহী জাকারিয়ার কথিত ‘গ্রিন সিগন্যালের’ মাধ্যমে পণ্যবাহী যাত্রীরা তল্লাশি এড়িয়ে ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে বের হয়ে যান। ব্যাগেজপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইমিগ্রেশন সূত্রের দাবি, প্রতিদিন কয়েকশ ভারতীয় বিজনেস ভিসাধারী যাত্রী বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাদের অনেকের ট্রলি ও ব্যাগে বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস, ফেসওয়াশ, শাড়ি, থ্রি-পিস, মোবাইল ফোন, চকলেট ও তৈরি পোশাক থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো যাত্রীর ট্রলিতে ৮০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত ফেসওয়াশ, একাধিক মোবাইল ফোন কিংবা ৮০ থেকে ১০০ পিস শাড়ি-থ্রি-পিস থাকে। এসব পণ্য বহনকারী যাত্রীরা নির্দিষ্ট সংকেত পাওয়ার পর দ্রুত তল্লাশি লাইন পার হয়ে বেরিয়ে যান বলে সূত্রের দাবি।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, ব্যাগেজপ্রতি দাবিকৃত টাকা দিতে না চাইলে পণ্য ‘ডিএম’ বা আটক করা হয়। আবার কখনো আটক করা পণ্য অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাগেজের মাধ্যমে বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ করায় বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

সূত্রের দাবি, ভারতীয় কিছু বিজনেস ভিসাধারী নিয়মিত বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তারা সকালে বাংলাদেশে এসে পণ্য নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ভারতে ফিরে যান।

তাদের অনেকেই পণ্য বহনকারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে। কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলি ও ব্যাগ বহনের বিনিময়ে তারা কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পান। তবে তাদের বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্থলপথে একজন যাত্রী একটি পঞ্জিকাবর্ষে বা বছরে সর্বোচ্চ তিনবার ৪০০ মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য শুল্ক-কর সুবিধায় আনতে পারেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু যাত্রী নিয়মিত সপ্তাহে বা মাসে একাধিকবার বাংলাদেশে এসে বাণিজ্যিক পরিমাণে পণ্য নিয়ে প্রবেশ করছেন। কয়েক ঘণ্টা পর আবার ভারতে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

এতে ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহারের পাশাপাশি সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বাজারে ভারতীয় পণ্য, বৈধ আমদানি কম

বেনাপোলের ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস ও বিভিন্ন পণ্য যশোরসহ আশপাশের জেলার বাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এসব পণ্যের বৈধ আমদানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

যশোরের আমদানিকারক তৌফিক জানান, শুল্ক ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে বৈধ আমদানির পরিবর্তে ক্যারিংয়ের মাধ্যমে পণ্য আনছেন। তাঁর দাবি, বৈধভাবে কসমেটিকস আমদানিতে কাস্টমস ডিউটির পাশাপাশি বিএসটিআইসহ বিভিন্ন খরচ থাকায় ব্যয় অনেক বেড়ে যায়।

অ-পাসপোর্ট যাত্রীদের প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন

স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইমিগ্রেশন এলাকায় কিছু অ-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি প্রবেশ করে ব্যাগেজ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছেন। বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তারা ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এলাকায় ঢুকে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের এক কর্মকর্তা বলেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে চোরাচালান ও শুল্কফাঁকির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কর্মকর্তাদের বাধা দিলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন উদ্ভব চন্দ্রপাল

অভিযোগের বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘আমি ইমিগ্রেশনে নেই।’ পরে তিনি ইমিগ্রেশনে থাকার কথা স্বীকার করেন। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

অভিযোগে নাম আসা সিপাহী জাকারিয়া ও সিপাহী রায়হানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বিজিবির দাবি, চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান চলছে

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্তে চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি দিন-রাত কাজ করছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য আটক করা হচ্ছে এবং টাস্কফোর্সের মাধ্যমেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার রাজস্ব হারায়। এ প্রবণতা ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযান চালিয়ে ওই দিনও প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন পণ্য আটক করা হয়েছে।

তবে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ-বাণিজ্য ও ব্যাগেজ সিন্ডিকেটকে সহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।