চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের অফিস সহকারী খান মিজানুল রহমান মিজানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, ভুয়া জোত পারমিট ও স’মিলের লাইসেন্স ইস্যু-নবায়নসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে প্রভাব বিস্তার করে মিজান এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মিজানুল রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের বৈধ উৎস কী—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। একই সঙ্গে তার সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে কর্মরত মিজান নিয়মিত অফিস না করে সপ্তাহের নির্দিষ্ট কয়েকদিন দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রবি বা সোমবার ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে এসে অফিস করেন এবং বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই আবার ঢাকায় ফিরে যান।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও মিজানের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, বদলি কমিটির সুপারিশ এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) স্বাক্ষরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বদলি আদেশ হলেও ঘুষের টাকা না দিলে অনেক ক্ষেত্রে সেই আদেশ কার্যকর হতে বিলম্ব করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পছন্দের কর্মস্থলে পোস্টিং দেওয়ার নামে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হতো। চেক স্টেশনে পোস্টিংয়ের জন্য ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং রেঞ্জ ও বিটের ধরন অনুযায়ী ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ফরেস্ট গার্ড অভিযোগ করেছেন, পছন্দের স্থানে বদলির আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কাজ করে দেওয়া হয়নি। এমনকি নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তাদের দাবি।
মিজানের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও ভুয়া জোত পারমিট সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে জোত পারমিট সংক্রান্ত কাগজপত্র, ছাড়পত্র, প্রাথমিক তদন্ত, খাড়া মার্কা, পাশ মার্কা ও ট্রানজিট পাস (টিপি) ইস্যুতে তিনি প্রভাব বিস্তার করেন।
এ ক্ষেত্রে কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘনফুটপ্রতি ১০ টাকা বা ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন স’মিলের লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন নিয়েও মিজানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের অনেক বেশি মেয়াদ উত্তীর্ণ স’মিলের লাইসেন্সও অর্থের বিনিময়ে নবায়ন করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে রেঞ্জ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং ডিএফওকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে এসব অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া নতুন স’মিলের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রেও ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারীদের দাবি, মিজানুল রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে তার সম্পদ, আয়-ব্যয়, বদলি বাণিজ্য, পারমিট ও স’মিলের লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
তারা মিজানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে খান মিজানুল রহমান মিজানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।




















