১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের চার খুন: ‘পেশাদারিত্বের সঙ্গে প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজছি’

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:০১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মাহবুবুর রশীদ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ কমিশনার।

মাহবুবুর রশীদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে আসবে। সেসব প্রশ্নের উত্তর পেশাদারিত্বের সঙ্গে খুঁজে বের করাই পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি বলেন, এ মামলা নিয়ে সারা দেশে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো যাচাই করে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথভাবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করাই পুলিশের লক্ষ্য।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যাতে আইনের বাইরে থাকতে না পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবুর রশীদ বলেন, তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। তবে তিনি রংপুরে মাত্র একদিন আগে যোগ দিয়েছেন। ঘটনাস্থলটি ক্রাইমসিন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্তে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোনো তথ্য বা সূত্র কারও জানা থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমা, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ির তালা ভেঙে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তার ছেলে প্রিয়ম একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় পরদিন ভোরে মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে অফিস সহকারী মিজানের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

রংপুরের চার খুন: ‘পেশাদারিত্বের সঙ্গে প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজছি’

আপডেট: ০৯:০১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মাহবুবুর রশীদ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ কমিশনার।

মাহবুবুর রশীদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে আসবে। সেসব প্রশ্নের উত্তর পেশাদারিত্বের সঙ্গে খুঁজে বের করাই পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি বলেন, এ মামলা নিয়ে সারা দেশে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো যাচাই করে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথভাবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করাই পুলিশের লক্ষ্য।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যাতে আইনের বাইরে থাকতে না পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আসামি সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবুর রশীদ বলেন, তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। তবে তিনি রংপুরে মাত্র একদিন আগে যোগ দিয়েছেন। ঘটনাস্থলটি ক্রাইমসিন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। তদন্তে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নতুন কোনো তথ্য বা সূত্র কারও জানা থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমা, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ির তালা ভেঙে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তার ছেলে প্রিয়ম একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় পরদিন ভোরে মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।