০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

চৌগাছার ইউএনও ফারজানার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:২৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

যশোরের চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা সিরাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থের অনিয়ম, সরকারি বাসা ও গাড়ি ব্যবহারে বিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও এক সাংবাদিককে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করে এসব অনিয়ম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরও চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়মের চিত্রের তেমন পরিবর্তন হয়নি। ইউএনওর প্রভাবের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই মুখ খুলতে চান না বলেও দাবি তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩৬তম বিসিএসের কর্মকর্তা ফারজানা সিরাজের চাকরিজীবনের শুরু যশোরের শার্শা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাঝখানে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে যাওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অন্য কর্মকর্তারা ইউএনওর দায়িত্ব পালন করেন। পরে পুনরায় ফারজানা সিরাজ চৌগাছার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন।

অভিযোগ রয়েছে, পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার প্রভাব আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পছন্দের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও একজন সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রশাসনে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন।

মেরামত খাতের ১০ লাখ টাকা নিয়ে প্রশ্ন

উপজেলা পরিষদের বাসা, বাংলো ও অফিস মেরামতের জন্য রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি অর্থবছরের প্রায় ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ থেকে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট সীমার বেশি সরকারি কাজের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কাজে তা করা হয়নি।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইউনুস আলীর বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলের অর্থ পরিশোধে আপত্তি জানালেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে তাকে অর্থ ছাড় করতে হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন জানান, তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন এবং আগের কাজের বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই। সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডুও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

সরকারি গাড়ি ও বাসা ব্যবহারে অভিযোগ

ইউএনওর সরকারি গাড়ি নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ছুটির দিনসহ বিভিন্ন সময়ে গাড়িটি যশোর, ঝিনাইদহ এমনকি ঢাকায় যাতায়াতেও ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউএনওর সরকারি বাসভবন ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কোয়ার্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম না মানার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাসায় থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহারসহ কয়েকজনের সরকারি বাসা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের ভাড়া বকেয়া থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য নির্ধারিত বাংলো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিককে ঘিরে প্রভাবশালী বলয় তৈরির অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌগাছার এক সাংবাদিক ইউএনওর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছেন। সরকারি বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক সদস্য না হয়েও ওই সাংবাদিককে ইউএনওর পাশে দেখা যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ওই সাংবাদিকের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ইউএনওর আর্থিক লেনদেন রয়েছে—এমন অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ না করেই কিংবা আংশিক কাজ করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা নথি প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হলেও এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি নিয়েও প্রশ্ন

চৌগাছা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও ইউএনওর প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখা হয়েছে এবং একজন স্থানীয় সাংবাদিককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধে গঠিত কমিটিই যদি প্রশাসনের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ কতটা সম্ভব।

অভিযোগের বিষয়ে ইউএনওর বক্তব্য

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও ফারজানা সিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করার কথা বলেন। অভিযোগের বিষয়ে তার লিখিত বা বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থের ব্যবহার, সরকারি বাসা-গাড়ির ব্যবহার, প্রকল্পের বিল এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসহ উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই এখনো স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, আর্থিক হিসাব এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

মির্জা ফখরুল দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ

চৌগাছার ইউএনও ফারজানার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আপডেট: ০৫:২৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

যশোরের চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা সিরাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থের অনিয়ম, সরকারি বাসা ও গাড়ি ব্যবহারে বিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও এক সাংবাদিককে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করে এসব অনিয়ম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরও চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়মের চিত্রের তেমন পরিবর্তন হয়নি। ইউএনওর প্রভাবের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই মুখ খুলতে চান না বলেও দাবি তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩৬তম বিসিএসের কর্মকর্তা ফারজানা সিরাজের চাকরিজীবনের শুরু যশোরের শার্শা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাঝখানে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে যাওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অন্য কর্মকর্তারা ইউএনওর দায়িত্ব পালন করেন। পরে পুনরায় ফারজানা সিরাজ চৌগাছার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেন।

অভিযোগ রয়েছে, পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার প্রভাব আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পছন্দের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও একজন সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রশাসনে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন।

মেরামত খাতের ১০ লাখ টাকা নিয়ে প্রশ্ন

উপজেলা পরিষদের বাসা, বাংলো ও অফিস মেরামতের জন্য রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি অর্থবছরের প্রায় ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ থেকে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট সীমার বেশি সরকারি কাজের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কাজে তা করা হয়নি।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইউনুস আলীর বক্তব্য হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলের অর্থ পরিশোধে আপত্তি জানালেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে তাকে অর্থ ছাড় করতে হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন জানান, তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন এবং আগের কাজের বিষয়ে তার বিস্তারিত জানা নেই। সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডুও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

সরকারি গাড়ি ও বাসা ব্যবহারে অভিযোগ

ইউএনওর সরকারি গাড়ি নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ছুটির দিনসহ বিভিন্ন সময়ে গাড়িটি যশোর, ঝিনাইদহ এমনকি ঢাকায় যাতায়াতেও ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া ইউএনওর সরকারি বাসভবন ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কোয়ার্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম না মানার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাসায় থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহারসহ কয়েকজনের সরকারি বাসা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের ভাড়া বকেয়া থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য নির্ধারিত বাংলো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিককে ঘিরে প্রভাবশালী বলয় তৈরির অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌগাছার এক সাংবাদিক ইউএনওর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছেন। সরকারি বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক সদস্য না হয়েও ওই সাংবাদিককে ইউএনওর পাশে দেখা যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ওই সাংবাদিকের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ইউএনওর আর্থিক লেনদেন রয়েছে—এমন অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ না করেই কিংবা আংশিক কাজ করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা নথি প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হলেও এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি নিয়েও প্রশ্ন

চৌগাছা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও ইউএনওর প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখা হয়েছে এবং একজন স্থানীয় সাংবাদিককে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধে গঠিত কমিটিই যদি প্রশাসনের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে কার্যকরভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ কতটা সম্ভব।

অভিযোগের বিষয়ে ইউএনওর বক্তব্য

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও ফারজানা সিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করার কথা বলেন। অভিযোগের বিষয়ে তার লিখিত বা বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থের ব্যবহার, সরকারি বাসা-গাড়ির ব্যবহার, প্রকল্পের বিল এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসহ উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই এখনো স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, আর্থিক হিসাব এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।