০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

কলকাতার হোটেলে আগুন: কুষ্টিয়ায় ফেরার আগেই সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের চারজনের মৃত্যু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার স্থানীয় দৈনিকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণ শিষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার কথা থাকলেও মর্মান্তিক এ ঘটনায় আর কুষ্টিয়ায় ফেরা হলো না পরিবারের চার সদস্যের।

দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার বাহাদুর আলী বিশ্বাস সড়কের একটি তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। তিনি চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিহত আকরাম আলী কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার বদরুদ্দোজা সড়কের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ওজোপাডিকোর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী।

পারিবারিক সূত্র জানায়, অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে গত ৩ আগস্ট মেডিকেল ভিসায় কুষ্টিয়া থেকে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী ছেলে। তাদের আট বছর বয়সী কন্যা মহিমা দত্তকে কুষ্টিয়ায় দাদা-দাদির কাছে রেখে যাওয়া হয়েছিল।

কুষ্টিয়া থেকে কলকাতা হয়ে দেবাশীষ তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে বিমানযোগে কলকাতায় ফিরে একটি হোটেলে ওঠেন তারা।

পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কিছু কেনাকাটা শেষে বুধবার সকালে কলকাতার গেদে সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত জানান, মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা হয় দেবাশীষের। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বুধবার সকালেই তারা গেদে সীমান্ত দিয়ে কুষ্টিয়ায় ফিরবেন।।

ভারতে অবস্থানকালে দেবাশীষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসা ও ভ্রমণের বিভিন্ন ছবি ও তথ্য প্রকাশ করছিলেন। একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘টানা ১৩ দিন পর বেঙ্গালুরু বাই বাই…’। দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি নেমে আসে পরিবারটির ওপর।

দেবাশীষসহ নিহত চারজনের মরদেহ গ্রহণের জন্য তাঁর একমাত্র বোন তিথির ভাসুর কৃষ্ণ নন্দী কলকাতায় অবস্থান করছেন। তিনি মালদা থেকে কলকাতায় পৌঁছে মরদেহ শনাক্ত ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।

জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে ফেরানোর সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ গেদে সীমান্ত দিয়ে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবার ও স্বজনদের মধ্যেও চলছে শোকের মাতম।

কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর বলেন, দেবাশীষ ছিলেন নির্মোহ, পরিশ্রমী ও মেধাবী একজন সংবাদকর্মী। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি পেশার প্রতি নিষ্ঠাবান ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার গণমাধ্যম অঙ্গন একজন মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন সাংবাদিককে হারিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

Step-by-step registration at WrBet Kenya: your path to gaming fun

কলকাতার হোটেলে আগুন: কুষ্টিয়ায় ফেরার আগেই সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের চারজনের মৃত্যু

আপডেট: ১০:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার স্থানীয় দৈনিকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণ শিষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার কথা থাকলেও মর্মান্তিক এ ঘটনায় আর কুষ্টিয়ায় ফেরা হলো না পরিবারের চার সদস্যের।

দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার বাহাদুর আলী বিশ্বাস সড়কের একটি তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। তিনি চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিহত আকরাম আলী কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার বদরুদ্দোজা সড়কের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ওজোপাডিকোর অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী।

পারিবারিক সূত্র জানায়, অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে গত ৩ আগস্ট মেডিকেল ভিসায় কুষ্টিয়া থেকে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী ছেলে। তাদের আট বছর বয়সী কন্যা মহিমা দত্তকে কুষ্টিয়ায় দাদা-দাদির কাছে রেখে যাওয়া হয়েছিল।

কুষ্টিয়া থেকে কলকাতা হয়ে দেবাশীষ তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে বিমানযোগে কলকাতায় ফিরে একটি হোটেলে ওঠেন তারা।

পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কিছু কেনাকাটা শেষে বুধবার সকালে কলকাতার গেদে সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত জানান, মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা হয় দেবাশীষের। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বুধবার সকালেই তারা গেদে সীমান্ত দিয়ে কুষ্টিয়ায় ফিরবেন।।

ভারতে অবস্থানকালে দেবাশীষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসা ও ভ্রমণের বিভিন্ন ছবি ও তথ্য প্রকাশ করছিলেন। একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘টানা ১৩ দিন পর বেঙ্গালুরু বাই বাই…’। দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি নেমে আসে পরিবারটির ওপর।

দেবাশীষসহ নিহত চারজনের মরদেহ গ্রহণের জন্য তাঁর একমাত্র বোন তিথির ভাসুর কৃষ্ণ নন্দী কলকাতায় অবস্থান করছেন। তিনি মালদা থেকে কলকাতায় পৌঁছে মরদেহ শনাক্ত ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন।

জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে দূতাবাসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে ফেরানোর সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ গেদে সীমান্ত দিয়ে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবার ও স্বজনদের মধ্যেও চলছে শোকের মাতম।

কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর বলেন, দেবাশীষ ছিলেন নির্মোহ, পরিশ্রমী ও মেধাবী একজন সংবাদকর্মী। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি পেশার প্রতি নিষ্ঠাবান ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার গণমাধ্যম অঙ্গন একজন মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন সাংবাদিককে হারিয়েছে।