১২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশু হত্যায় সাড়ে ৪ বছর জেল, জামিনের মাস না পেরোতেই গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩০

কুমিল্লার দেবিদ্বারে গৃহকর্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত লাইলি আক্তার (৩৩) এর আগেও পাঁচ বছরের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যার মামলায় সাড়ে চার বছর কারাগারে ছিলেন। মাত্র এক মাস আগে জামিনে মুক্ত হয়ে ফেরার পর মাস না পেরোতেই একই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভূঁইয়া হাউজের মালিক মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন লাইলি আক্তার। গত শুক্রবার রাতে ফরিদা বাড়িতে একা থাকার সুযোগে লাইলি তার কথিত প্রেমিক আমির হোসেন এবং সহযোগী সোহেল রানা ও রবিউল ইসলামকে বাড়িতে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনের ডোবা ও ঝোপঝাড়সহ বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ ও স্বজনদের অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ঘরে গৃহনির্মাণের জন্য রাখা প্রায় ৭ লাখ টাকা নগদ এবং ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

শনিবার সকাল থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনেরা তার খোঁজে বাড়িতে আসেন। এ সময় লাইলির কথাবার্তায় অসংলগ্নতা এবং বাড়ির বারান্দা পানি দিয়ে ধুতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে বাড়ির পেছনে বস্তায় পলিথিন মোড়ানো মরদেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে লাইলিকে আটক করে স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহত ফরিদার মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে তার মাথা ও পা-সহ মরদেহের মোট ১৩টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় আমির হোসেনের পাঁচ বছরের শিশুকন্যা ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল লাইলি আক্তার ও তার কথিত প্রেমিক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে।

ওই মামলায় সাভার ও কুমিল্লার কারাগারে প্রায় সাড়ে চার বছর থাকার পর মাত্র এক মাস আগে জামিনে মুক্ত হন লাইলি। জামিনে বের হওয়ার এক মাসের মধ্যেই এবার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠল তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে লাইলি আক্তার, আমির হোসেন, সোহেল রানা ও রবিউল ইসলামকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে ছোট আলমপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা দ্রুত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার লাইলি আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোভের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে উদ্ভব চন্দ্রপালের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ, ব্যাগেজ সিন্ডিকেটে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির দাবি

শিশু হত্যায় সাড়ে ৪ বছর জেল, জামিনের মাস না পেরোতেই গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট: ০৯:৫০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বারে গৃহকর্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত লাইলি আক্তার (৩৩) এর আগেও পাঁচ বছরের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যার মামলায় সাড়ে চার বছর কারাগারে ছিলেন। মাত্র এক মাস আগে জামিনে মুক্ত হয়ে ফেরার পর মাস না পেরোতেই একই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভূঁইয়া হাউজের মালিক মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন লাইলি আক্তার। গত শুক্রবার রাতে ফরিদা বাড়িতে একা থাকার সুযোগে লাইলি তার কথিত প্রেমিক আমির হোসেন এবং সহযোগী সোহেল রানা ও রবিউল ইসলামকে বাড়িতে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনের ডোবা ও ঝোপঝাড়সহ বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ ও স্বজনদের অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ঘরে গৃহনির্মাণের জন্য রাখা প্রায় ৭ লাখ টাকা নগদ এবং ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

শনিবার সকাল থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনেরা তার খোঁজে বাড়িতে আসেন। এ সময় লাইলির কথাবার্তায় অসংলগ্নতা এবং বাড়ির বারান্দা পানি দিয়ে ধুতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে বাড়ির পেছনে বস্তায় পলিথিন মোড়ানো মরদেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে লাইলিকে আটক করে স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহত ফরিদার মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে তার মাথা ও পা-সহ মরদেহের মোট ১৩টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় আমির হোসেনের পাঁচ বছরের শিশুকন্যা ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল লাইলি আক্তার ও তার কথিত প্রেমিক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে।

ওই মামলায় সাভার ও কুমিল্লার কারাগারে প্রায় সাড়ে চার বছর থাকার পর মাত্র এক মাস আগে জামিনে মুক্ত হন লাইলি। জামিনে বের হওয়ার এক মাসের মধ্যেই এবার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠল তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে লাইলি আক্তার, আমির হোসেন, সোহেল রানা ও রবিউল ইসলামকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে ছোট আলমপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা দ্রুত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার লাইলি আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোভের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।