০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

হাতিয়ায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে বেত্রাঘাত,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:১১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক যুবককে গ্রাম্য সালিশে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালিশের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে শিশুটি পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির ছোট বোনকে বাইরে বসিয়ে রেখে দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাটি জানতে পারেন।

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে মত দেওয়া হলেও শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এ শাস্তি কোনো আদালতের নির্দেশে নয়, স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ভুক্তভোগী পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তার দাবি, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয়ভাবে ভিন্নমত রয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং সরকার পরিবর্তনের পর জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন। তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, হেলাল উদ্দিন দলের কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল কর্মী নন।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়েছে কি না বা তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সর্বাধিক পঠিত

মহাখালীতে এএসআইয়ের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

হাতিয়ায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে বেত্রাঘাত,

আপডেট: ০১:১১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক যুবককে গ্রাম্য সালিশে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালিশের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে শিশুটি পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির ছোট বোনকে বাইরে বসিয়ে রেখে দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাটি জানতে পারেন।

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে মত দেওয়া হলেও শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এ শাস্তি কোনো আদালতের নির্দেশে নয়, স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ভুক্তভোগী পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তার দাবি, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয়ভাবে ভিন্নমত রয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং সরকার পরিবর্তনের পর জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন। তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, হেলাল উদ্দিন দলের কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল কর্মী নন।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়েছে কি না বা তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।