ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দালালচক্রের মাধ্যমে ভূমিসেবা নিয়ন্ত্রণ, নামজারিতে হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত মাসে স্থানীয় চার বাসিন্দা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্রের মাধ্যমে নামজারি, খতিয়ানসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অফিসে নিয়মবহির্ভূত সময় পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা, দালালদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের কারণে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগকারীরা মনিরুজ্জামানকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার, বিভাগীয় তদন্ত এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মনিরুজ্জামান দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, নির্বাচনী প্রচারণা ও সমাবেশে তাকে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তারা। সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি এসব ছবি সংবলিত পোস্টারও বিভিন্ন এলাকায় টানানো হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
বর্তমানে মনিরুজ্জামান আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নায়েব হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠলেও এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং গুরুত্বপূর্ণ আমিনবাজার ভূমি অফিসে কর্মরত থেকে তিনি প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।
সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মনিরুজ্জামানকে নিয়ে লাগানো পোস্টারে তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘ঢাকা জেলা ভূমি অফিসের অঘোষিত মাফিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পোস্টারে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার ছবি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি লিখিত অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানি না। ভালো কাজ করায় আমার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সংগঠন করায় আমি অনেকের রোষানলে পড়েছি।’
আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ছবিগুলো নিজের নয় বলে দাবি করেন। পরে বলেন, ছবিগুলো তার মতো দেখা গেলেও এগুলো কবে তোলা হয়েছে বা কেউ তৈরি করেছে কি না, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। সরকারি কাজের সূত্রে ছবি থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
সাভারের বনগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী আবু সাঈদ বলেন, আমিনবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন একজন আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা কর্মরত আছেন—এ বিষয়টি তার জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাভার থানা বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না। অভিযোগ সত্য হলে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ কোনো কর্মকর্তার সেখানে থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




















