জয়পুরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণ, মাদক সরবরাহ, যৌতুক দাবি ও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী শামিয়া খান এশা।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
শামিয়া খান এশা নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে বলেন, পরকীয়া সম্পর্কে বাধা দেওয়া এবং যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পরে শিশুসন্তানসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এশা অভিযোগ করেন, তার স্বামী নিজের গাড়ি ব্যবহার করে দিনাজপুরের হিলি থেকে মাদক সংগ্রহ করে জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। অধস্তন পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ এড়াতে তিনি নিজের গাড়ি ব্যবহার করতেন বলেও দাবি করেন এশা। একই সঙ্গে তার স্বামী নিজেও মাদক গ্রহণ করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এশার দাবি, ২০১৯ সালে বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী মাদক সেবন ও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবাদ করলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসার টিকিয়ে রাখতে এরই মধ্যে যৌতুক হিসেবে ৪০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চলতি বছরের শুরুতে সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়েসহ তাকে মারধর করে জয়পুরহাটের বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এশা জানান, গত ৩০ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় স্বামীকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করলে তিনি আবারও মারধরের শিকার হন। প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগের পাশাপাশি গত ৫ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি।
তার অভিযোগ, মামলা করার পর ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আরিফ হোসেন প্রভাব খাটিয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় তার ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে পাল্টা চুরির মামলা করেছেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জয়পুরহাট থেকে প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শামিয়া খান এশা।
তবে স্ত্রীর আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন। তার দাবি, তার স্ত্রীর পরিবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এবং স্ত্রীর আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে তার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরিফ হোসেন বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার স্ত্রী বাসা থেকে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট, ব্যাংকের চেক ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। পরে ফেব্রুয়ারিতে তিনি তালাকের নোটিশ পাঠান।
যৌতুক নেওয়া বা দাবি করার অভিযোগও অস্বীকার করে আরিফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেব।’
তার দাবি, স্ত্রীর আগের বিয়ে ও প্রতারণার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তা আড়াল করতেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।




















