১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সরকারি আবাসন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৮

চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ ও হালিশহর হাউজিং এস্টেটে সরকারি আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগকারী সূত্রগুলোর দাবি, প্রকল্পের মূল ব্যয় ৯২ কোটি টাকা থেকে সংশোধিত উন্নয়ন প্রস্তাবের মাধ্যমে ১০৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। তাদের প্রশ্ন, অতিরিক্ত ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা কী এবং সংশোধিত ব্যয়ের বিপরীতে কী অতিরিক্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফিরোজশাহ ও হালিশহর হাউজিং এস্টেটে ১ দশমিক ৪৫ একর জমিতে চারটি ১০ তলা ভবনে মোট ৩৪২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগকারী সূত্রের ভাষ্য, প্রকল্পের বিভিন্ন ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকা সত্ত্বেও কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে সরকারি তদন্ত বা নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

সরকারি অগ্রগতি প্রতিবেদনে ভবনগুলোর বিভিন্ন ধাপের নির্মাণকাজ চলমান থাকার তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি এবং বিল পরিশোধের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের মেজারমেন্ট বুক (এমবি), বিল ভাউচার, কারিগরি পরিদর্শন প্রতিবেদন, সংশোধিত ব্যয়ের অনুমোদন, কার্যাদেশ এবং কাজের অগ্রগতির নথিপত্র পর্যালোচনা করা জরুরি।

অভিযোগকারী সূত্র আরও দাবি করেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা ছিল। তবে এসব অভিযোগও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় অভিযোগের বিষয়ে সাবেক প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সোহেল সরকার, পরবর্তী প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।

জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও বিল পরিশোধ-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

 

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই জখম

চট্টগ্রামের সরকারি আবাসন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ,

আপডেট: ১০:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ ও হালিশহর হাউজিং এস্টেটে সরকারি আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগকারী সূত্রগুলোর দাবি, প্রকল্পের মূল ব্যয় ৯২ কোটি টাকা থেকে সংশোধিত উন্নয়ন প্রস্তাবের মাধ্যমে ১০৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। তাদের প্রশ্ন, অতিরিক্ত ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা কী এবং সংশোধিত ব্যয়ের বিপরীতে কী অতিরিক্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফিরোজশাহ ও হালিশহর হাউজিং এস্টেটে ১ দশমিক ৪৫ একর জমিতে চারটি ১০ তলা ভবনে মোট ৩৪২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগকারী সূত্রের ভাষ্য, প্রকল্পের বিভিন্ন ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকা সত্ত্বেও কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে সরকারি তদন্ত বা নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

সরকারি অগ্রগতি প্রতিবেদনে ভবনগুলোর বিভিন্ন ধাপের নির্মাণকাজ চলমান থাকার তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি এবং বিল পরিশোধের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের মেজারমেন্ট বুক (এমবি), বিল ভাউচার, কারিগরি পরিদর্শন প্রতিবেদন, সংশোধিত ব্যয়ের অনুমোদন, কার্যাদেশ এবং কাজের অগ্রগতির নথিপত্র পর্যালোচনা করা জরুরি।

অভিযোগকারী সূত্র আরও দাবি করেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা ছিল। তবে এসব অভিযোগও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় অভিযোগের বিষয়ে সাবেক প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সোহেল সরকার, পরবর্তী প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।

জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও বিল পরিশোধ-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।