দেশের সাত জেলায় চলমান বন্যা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ৫৬টি উপজেলা, ৩৭৪টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে ২৯৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ৩ জন, বান্দরবানে ৭ জন, কক্সবাজারে ৩২ জন (স্থানীয় ১৯, রোহিঙ্গা ১৩), চট্টগ্রামে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া দুর্যোগে ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে ১ জন, বান্দরবানে ২ জন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০, রোহিঙ্গা ৫) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, গোখাদ্য, ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ অনুদানসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
জেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে কক্সবাজারে ৪০ লাখ টাকা, ৪৫০ টন চাল, ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, শিশুখাদ্য ও গোখাদ্য দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা, ১ হাজার ২০০ টন চাল, ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও গোখাদ্য।
এ ছাড়া বান্দরবানে ২০ লাখ টাকা, ৪০০ টন চাল, শিশুখাদ্য ও গোখাদ্য বরাদ্দের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ অনুদান বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বন্যাদুর্গত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।





















