উত্তরা ব্যাংকের সিলেটের আম্বরখানা শাখায় এক ব্যবসায়ীর সঞ্চয়ী হিসাব থেকে রহস্যজনকভাবে ৫ লাখ টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লায়েক আহমদ জানান, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল তিনি উত্তরা ব্যাংকের আম্বরখানা শাখায় তার সঞ্চয়ী হিসাবে ৫ লাখ টাকা জমা রাখেন। পরে গত ১ জুলাই সার্ভিস চার্জ বাবদ ১০০ টাকা কেটে নেওয়ার এসএমএস পাওয়ার পর তিনি হিসাবের ব্যালেন্স যাচাই করে দেখেন, তার হিসাবে মাত্র ২ হাজার ৩৫ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
তিনি জানান, পরদিন ২ জুলাই ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি জানালে কর্মকর্তারা তাকে জানান, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে তার হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে লায়েক আহমদের দাবি, তিনি কখনোই ব্যাংকের কোনো মোবাইল অ্যাপ বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করেননি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি। বরং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে উত্তরা ব্যাংকের আম্বরখানা শাখার ব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের তদন্তে দেখা গেছে, গ্রাহকের নামে একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ সক্রিয় ছিল এবং সেই অ্যাপ ব্যবহার করেই সব লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় ওটিপি (ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড) গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরেই পাঠানো হয়েছিল। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তিনি আরও জানান, তদন্তে দেখা গেছে, গত ১০ ও ১১ জুন দুই দিনে মোট ১০টি লেনদেনের মাধ্যমে চারটি ব্যাংক হিসাব ও একটি বিকাশ নম্বরে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।
ব্যবস্থাপক বলেন, গ্রাহক জিডি করার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ই-মেইল পাঠিয়ে অভিযুক্ত হিসাবগুলো ফ্রিজ করার অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে প্রাইম ব্যাংক ই-মেইলের জবাবে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট হিসাবধারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং ওই হিসাবে অর্থ জমা হলে তা ভুক্তভোগীকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইসলামী ব্যাংকে ই-মেইল পাঠানো হলেও তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান বলেন, উত্তরা ব্যাংকের আম্বরখানা শাখার এক গ্রাহকের হিসাব থেকে ৫ লাখ টাকা স্থানান্তরের ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















