জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (কর্মসংস্থান) দপ্তরে কর্মরত অফিস সহায়ক শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগসাজশ করে জাল ভিসা তৈরি, মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট বাণিজ্য, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স, বিএমইটি কার্ড জালিয়াতি, অবৈধ বদলি এবং টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মে তিনি জড়িত।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিস সহায়ক পদে কর্মরত থাকলেও শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলম বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএমইটিতে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ পান নূর-এ-আলম। পরে তৎকালীন মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রভাব বিস্তার করেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান পরিচালক (বহির্গমন) তাজিম-উর-রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে প্রভাব খাটাতে শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে জাল ভিসা তৈরি, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর সিন্ডিকেট পরিচালনা, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স, বিএমইটি কার্ড পাইয়ে দেওয়া, অবৈধ বদলি এবং টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদেও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলমের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিলেও সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। তাদের দাবি, রহস্যজনক কারণে অভিযোগের ফাইলগুলো কার্যকরভাবে আমলে নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, “আমার কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (কর্মসংস্থান) দপ্তরে গিয়ে অফিস সহায়ক শাহ মোহাম্মদ নূর-এ-আলমকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




















