০১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত, তবুও ঢাকা মেট্রো জোনে বহাল প্রকৌশলী আলিফ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) একাধিক মেগা প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিল পাসের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে নাম উঠে আসা প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফকে ঢাকা মেট্রো জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বহাল রাখায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ইইডির মেগা প্রকল্পে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরের ১০ অক্টোবর জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে কাফরুলের একটি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ প্রকল্পে বাস্তব অগ্রগতি না থাকলেও বিপুল অঙ্কের বিল অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফের সম্পৃক্ততায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়, যদিও প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ তখনও সম্পন্ন হয়নি। তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সাভার জোনে দায়িত্ব পালনকালে কেরানীগঞ্জে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮০ কোটি টাকার নির্মাণ প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ কোটি টাকা অগ্রিম বিল প্রদান করা হয়।

 

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী আলিফ অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’–এর ইইডি শাখার নেতৃত্বে যুক্ত ছিলেন। তার এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠেছে।

সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ তাকে সাভার থেকে বদলি করে ঢাকা মেট্রো জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আগারগাঁওয়ে নতুন প্রধান কার্যালয় নির্মাণের শতকোটি টাকার টেন্ডারকে কেন্দ্র করে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ ওঠা কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা দুর্নীতিবিরোধী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা ২০২২ সালের তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফ বলেন, সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ নেই। কাজ না করেই অগ্রিম বিল দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “কাজ না করে অগ্রিম টাকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যে তদন্ত প্রতিবেদনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় ৩০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ মাদক কারবারি আটক

তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত, তবুও ঢাকা মেট্রো জোনে বহাল প্রকৌশলী আলিফ

আপডেট: ১১:১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) একাধিক মেগা প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিল পাসের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে নাম উঠে আসা প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফকে ঢাকা মেট্রো জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বহাল রাখায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ইইডির মেগা প্রকল্পে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরের ১০ অক্টোবর জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে কাফরুলের একটি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ প্রকল্পে বাস্তব অগ্রগতি না থাকলেও বিপুল অঙ্কের বিল অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফের সম্পৃক্ততায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়, যদিও প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ তখনও সম্পন্ন হয়নি। তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সাভার জোনে দায়িত্ব পালনকালে কেরানীগঞ্জে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮০ কোটি টাকার নির্মাণ প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ কোটি টাকা অগ্রিম বিল প্রদান করা হয়।

 

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী আলিফ অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’–এর ইইডি শাখার নেতৃত্বে যুক্ত ছিলেন। তার এই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠেছে।

সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ তাকে সাভার থেকে বদলি করে ঢাকা মেট্রো জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আগারগাঁওয়ে নতুন প্রধান কার্যালয় নির্মাণের শতকোটি টাকার টেন্ডারকে কেন্দ্র করে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ ওঠা কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা দুর্নীতিবিরোধী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা ২০২২ সালের তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফ বলেন, সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ নেই। কাজ না করেই অগ্রিম বিল দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “কাজ না করে অগ্রিম টাকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যে তদন্ত প্রতিবেদনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”