০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

প্রথম চামড়ার হাটে মিশ্র চিত্র, অভিজ্ঞতার অভাবে লোকসানে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
  • ৫১৫

ঈদ-পরবর্তী প্রথম চামড়ার হাটে ভালো ও নিম্নমানের—উভয় ধরনের চামড়ার বেচাকেনা হলেও অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, কাটা, ছেঁড়া কিংবা রোগাক্রান্ত চামড়া বেশি দামে কিনে ফেলা এবং সংরক্ষণে ত্রুটির কারণে তাদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।

পাইকারি ক্রেতা আব্দুল হান্নান বলেন, বাজারে ভালো ও খারাপ—দুই ধরনের চামড়াই এসেছে। ভালো মানের চামড়া তুলনামূলক ভালো দামেই বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, নিজেও একটি চামড়া সর্বোচ্চ ৯০০ টাকায় কিনেছেন, যা ফুটপ্রতি হিসাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি। তার মতে, আরও উন্নত মানের চামড়া এখনও বাজারে আসেনি। আগামী হাটগুলোতে ভালো চামড়ার সরবরাহ বাড়লে বিক্রেতারাও বেশি দাম পাবেন।

আড়তদার হাসিব চৌধুরী বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক এবং বেশিরভাগ চামড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যের কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যারা লোকসানের অভিযোগ করছেন, তারা মূলত মৌসুমী ব্যবসায়ী। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা নিম্নমানের চামড়া বেশি দামে কিনছেন এবং সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণও সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে বাজারে এসে প্রত্যাশিত মূল্য পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, চামড়ার দাম সম্পূর্ণভাবে তার মানের ওপর নির্ভরশীল। ভালো চামড়ার মূল্য বেশি হলেও নিম্নমানের চামড়ার দাম কম। প্রথম হাটে নিম্নমানের চামড়ার আধিক্য থাকলেও প্রায় সব চামড়াই বিক্রি হয়েছে। সামনের হাটগুলোতে বাজার আরও প্রাণবন্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, আড়তদার আলাউদ্দিন মুকুল জানান, ঈদের পর অধিকাংশ ব্যবসায়ী চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেছেন। প্রথম হাটে অনেকেই বাজার পরিস্থিতি যাচাই করতে সীমিত পরিমাণ চামড়া এনেছেন। আগামী মঙ্গলবার ও শনিবারের হাটে চামড়ার সরবরাহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, ভালো মানের চামড়া ইতোমধ্যে ভালো দাম পেয়েছে, তবে যেসব চামড়ার দাম কম সেগুলোর অনেকগুলো অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এসব চামড়া না বুঝে কেনার কারণেই ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে সংরক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে। চামড়া খাতের উন্নয়নে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হাটের ইজারাদার রাজু আহমেদ জানান, ঈদের পর চামড়া সংগ্রহ, লবণ প্রয়োগ এবং সংরক্ষণের উপযোগী করতে কয়েকদিন সময় লাগে। এ কারণে প্রথম হাটে চামড়ার আমদানি তুলনামূলক কম ছিল। অনেক ব্যবসায়ী এখনও সংরক্ষিত চামড়ার গাঁট খোলেননি। আগামী হাটে চামড়ার সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বাইরের ক্রেতারাও অংশ নেবেন বলে তিনি আশা করছেন।

হাট ইজারাদারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হাটে প্রায় ৫ হাজার চামড়া উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী হাটগুলোতে সঠিক তদারকি এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে এবং বাজারে ইতিবাচক গতি ফিরে আসবে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে গ্রেপ্তার ‘খোঁড়া কামরুল

প্রথম চামড়ার হাটে মিশ্র চিত্র, অভিজ্ঞতার অভাবে লোকসানে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা

আপডেট: ০৯:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ঈদ-পরবর্তী প্রথম চামড়ার হাটে ভালো ও নিম্নমানের—উভয় ধরনের চামড়ার বেচাকেনা হলেও অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়ছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, কাটা, ছেঁড়া কিংবা রোগাক্রান্ত চামড়া বেশি দামে কিনে ফেলা এবং সংরক্ষণে ত্রুটির কারণে তাদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।

পাইকারি ক্রেতা আব্দুল হান্নান বলেন, বাজারে ভালো ও খারাপ—দুই ধরনের চামড়াই এসেছে। ভালো মানের চামড়া তুলনামূলক ভালো দামেই বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, নিজেও একটি চামড়া সর্বোচ্চ ৯০০ টাকায় কিনেছেন, যা ফুটপ্রতি হিসাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি। তার মতে, আরও উন্নত মানের চামড়া এখনও বাজারে আসেনি। আগামী হাটগুলোতে ভালো চামড়ার সরবরাহ বাড়লে বিক্রেতারাও বেশি দাম পাবেন।

আড়তদার হাসিব চৌধুরী বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক এবং বেশিরভাগ চামড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যের কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যারা লোকসানের অভিযোগ করছেন, তারা মূলত মৌসুমী ব্যবসায়ী। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা নিম্নমানের চামড়া বেশি দামে কিনছেন এবং সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণও সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে বাজারে এসে প্রত্যাশিত মূল্য পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, চামড়ার দাম সম্পূর্ণভাবে তার মানের ওপর নির্ভরশীল। ভালো চামড়ার মূল্য বেশি হলেও নিম্নমানের চামড়ার দাম কম। প্রথম হাটে নিম্নমানের চামড়ার আধিক্য থাকলেও প্রায় সব চামড়াই বিক্রি হয়েছে। সামনের হাটগুলোতে বাজার আরও প্রাণবন্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, আড়তদার আলাউদ্দিন মুকুল জানান, ঈদের পর অধিকাংশ ব্যবসায়ী চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেছেন। প্রথম হাটে অনেকেই বাজার পরিস্থিতি যাচাই করতে সীমিত পরিমাণ চামড়া এনেছেন। আগামী মঙ্গলবার ও শনিবারের হাটে চামড়ার সরবরাহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, ভালো মানের চামড়া ইতোমধ্যে ভালো দাম পেয়েছে, তবে যেসব চামড়ার দাম কম সেগুলোর অনেকগুলো অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এসব চামড়া না বুঝে কেনার কারণেই ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে সংরক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে। চামড়া খাতের উন্নয়নে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হাটের ইজারাদার রাজু আহমেদ জানান, ঈদের পর চামড়া সংগ্রহ, লবণ প্রয়োগ এবং সংরক্ষণের উপযোগী করতে কয়েকদিন সময় লাগে। এ কারণে প্রথম হাটে চামড়ার আমদানি তুলনামূলক কম ছিল। অনেক ব্যবসায়ী এখনও সংরক্ষিত চামড়ার গাঁট খোলেননি। আগামী হাটে চামড়ার সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বাইরের ক্রেতারাও অংশ নেবেন বলে তিনি আশা করছেন।

হাট ইজারাদারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হাটে প্রায় ৫ হাজার চামড়া উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী হাটগুলোতে সঠিক তদারকি এবং চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে এবং বাজারে ইতিবাচক গতি ফিরে আসবে।