ভারতের রাজস্থানের আজমের জেলায় চাঞ্চল্যকর এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে নিজের বাবা, সৎমা, দাদি ও চাচাতো বোনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে পরিকল্পনা করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয় এবং পরে সেটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
গত ২৮ মে আজমের শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের শ্রীরামপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সাবেক সরপঞ্চ রাম সিং চৌধুরী, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সূর্যজ্ঞান দেবী, মা পুসি দেবী এবং চাচাতো বোন মহিমা চৌধুরী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। পরে মরদেহগুলো একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও গাড়িতে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে জ্বলন্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পুলিশ দেখতে পায়, গাড়ির সামনের আসনে কোনো আরোহী ছিল না এবং নিহতদের একজনের শরীরে আগুন লাগার আগেই ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এরপরই তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার দিকে অগ্রসর হন।
তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক কলহ, দ্বিতীয় বিয়ে, উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযুক্ত কিশোর নিয়মিত অপরাধভিত্তিক ওয়েব সিরিজ দেখত এবং প্রমাণ নষ্ট ও তদন্ত এড়ানোর বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কেও জানার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে রাম সিং ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মদ্যপানের পর ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে কিশোরটি বাবার কক্ষে প্রবেশ করে প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে চিৎকার শুনে এগিয়ে আসা সৎমা, দাদি ও চাচাতো বোনকেও হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহগুলো গাড়িতে তুলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, পরিবারের সদস্যদের শোকের মধ্যেও অভিযুক্ত কিশোরের অস্বাভাবিক শান্ত আচরণ তাদের সন্দেহের কারণ হয়ে ওঠে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় কিশোরের মা, বোন এবং অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্থানের অন্যতম আলোচিত ও ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ড এটি।




















