০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ঈদ সামনে, যশোরের কামারশালায় ব্যস্ততা তুঙ্গে; রাতভর চলছে চাপট-দা তৈরির কাজ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ৫১১

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই যশোর শহরের কামারশালাগুলোতে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোহা পেটানোর শব্দে মুখর হয়ে উঠছে শহরের বিভিন্ন এলাকা। কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম—চাপট, দা, বটি ও ছুরির অর্ডার দিতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। আর সেই চাহিদা পূরণে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন কামাররা।

শহরের শংকরপুর জিরো পয়েন্ট মোড়, রেল রোড, টার্মিনাল রোড, সন্ন্যাসী দিঘীর পাড়, জামরুলতলা ও ব্যাটারিপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকার কামারশালায় এখন ব্যস্ততার চিত্র চোখে পড়ছে। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরনো দা, বটি, ছুরি ও চাপটে শান দেওয়ার কাজও চলছে সমানতালে।

কামারদের ভাষ্য, নতুন সরঞ্জাম তৈরির তুলনায় পুরনো সরঞ্জামে শান দেওয়ার অর্ডারই বেশি আসছে। সকাল সাতটা থেকে শুরু হওয়া কাজ অনেক সময় রাত একটা পর্যন্ত গড়াচ্ছে। ঈদের চাঁদরাত পর্যন্ত এ ব্যস্ততা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

বর্তমানে শহরের কামারশালাগুলোতে বিভিন্ন সাইজের চাপট বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। দা পাওয়া যাচ্ছে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকায়, বটি ১০০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং ছুরি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। অন্যদিকে পুরনো সরঞ্জামে শান দিতে চাপটের জন্য নেওয়া হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা, আর দা, বটি ও ছুরিতে শান দিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১০০ টাকা।

তবে ঈদ মৌসুমে ব্যস্ততা বাড়লেও কামারশিল্পের আগের সেই জৌলুস আর নেই বলে আক্ষেপ করছেন এ পেশার কারিগররা। তাদের মতে, কঠোর পরিশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে। পাশাপাশি সময় বাঁচাতে অনেকেই এখন রেডিমেড পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

শংকরপুর জিরো পয়েন্ট এলাকার প্রবীণ কামার মন্টু কর্মকার জানান, পাঁচ পুরুষ ধরে তাদের পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িত। একসময় কোরবানির ঈদে চাঁদরাত পর্যন্ত এমনকি রাতভর কাজ করতে হতো। কিন্তু এখন আগের মতো অর্ডার বা ক্রেতার ভিড় নেই।

টার্মিনাল রোড এলাকার গোবিন্দ কর্মকার বলেন, কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তরুণরা এখন এ পেশায় আসতে চান না। অনেকেই রিকশা, ভ্যান, সেলুন বা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে ব্যক্তি পর্যায়ের চেয়ে পাইকারি অর্ডারই বেশি আসে।

আশ্রম রোড এলাকার প্রশান্ত বিশ্বাসও একই আক্ষেপের কথা জানান। তিনি বলেন, একসময় কাস্টমারদের ভিড়ে কামারশালা সরগরম থাকত। এখন মানুষ তৈরি করানোর চেয়ে দোকান থেকে রেডিমেড পণ্য কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এদিকে শহরের হাটখোলা রোডের বিভিন্ন দোকানেও কোরবানির সরঞ্জাম কিনতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সেখানে রেডিমেড চাপট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, দা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়, বটি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় এবং ছুরি ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

ঈদকে ঘিরে বাড়তি কর্মব্যস্ততা কামারদের মুখে কিছুটা হাসি ফিরিয়ে আনলেও, পেশাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে তাদের মধ্যে।

সর্বাধিক পঠিত

না ফেরার দেশে বেনাপোল শ্রমিক নেতা মিজুন বিশ্বাস, শোকের ছায়া শার্শাজুড়ে

ঈদ সামনে, যশোরের কামারশালায় ব্যস্ততা তুঙ্গে; রাতভর চলছে চাপট-দা তৈরির কাজ

আপডেট: ১১:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই যশোর শহরের কামারশালাগুলোতে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোহা পেটানোর শব্দে মুখর হয়ে উঠছে শহরের বিভিন্ন এলাকা। কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম—চাপট, দা, বটি ও ছুরির অর্ডার দিতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। আর সেই চাহিদা পূরণে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন কামাররা।

শহরের শংকরপুর জিরো পয়েন্ট মোড়, রেল রোড, টার্মিনাল রোড, সন্ন্যাসী দিঘীর পাড়, জামরুলতলা ও ব্যাটারিপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকার কামারশালায় এখন ব্যস্ততার চিত্র চোখে পড়ছে। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরনো দা, বটি, ছুরি ও চাপটে শান দেওয়ার কাজও চলছে সমানতালে।

কামারদের ভাষ্য, নতুন সরঞ্জাম তৈরির তুলনায় পুরনো সরঞ্জামে শান দেওয়ার অর্ডারই বেশি আসছে। সকাল সাতটা থেকে শুরু হওয়া কাজ অনেক সময় রাত একটা পর্যন্ত গড়াচ্ছে। ঈদের চাঁদরাত পর্যন্ত এ ব্যস্ততা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

বর্তমানে শহরের কামারশালাগুলোতে বিভিন্ন সাইজের চাপট বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। দা পাওয়া যাচ্ছে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকায়, বটি ১০০ থেকে ৫০০ টাকায় এবং ছুরি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। অন্যদিকে পুরনো সরঞ্জামে শান দিতে চাপটের জন্য নেওয়া হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা, আর দা, বটি ও ছুরিতে শান দিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১০০ টাকা।

তবে ঈদ মৌসুমে ব্যস্ততা বাড়লেও কামারশিল্পের আগের সেই জৌলুস আর নেই বলে আক্ষেপ করছেন এ পেশার কারিগররা। তাদের মতে, কঠোর পরিশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে। পাশাপাশি সময় বাঁচাতে অনেকেই এখন রেডিমেড পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

শংকরপুর জিরো পয়েন্ট এলাকার প্রবীণ কামার মন্টু কর্মকার জানান, পাঁচ পুরুষ ধরে তাদের পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িত। একসময় কোরবানির ঈদে চাঁদরাত পর্যন্ত এমনকি রাতভর কাজ করতে হতো। কিন্তু এখন আগের মতো অর্ডার বা ক্রেতার ভিড় নেই।

টার্মিনাল রোড এলাকার গোবিন্দ কর্মকার বলেন, কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তরুণরা এখন এ পেশায় আসতে চান না। অনেকেই রিকশা, ভ্যান, সেলুন বা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে ব্যক্তি পর্যায়ের চেয়ে পাইকারি অর্ডারই বেশি আসে।

আশ্রম রোড এলাকার প্রশান্ত বিশ্বাসও একই আক্ষেপের কথা জানান। তিনি বলেন, একসময় কাস্টমারদের ভিড়ে কামারশালা সরগরম থাকত। এখন মানুষ তৈরি করানোর চেয়ে দোকান থেকে রেডিমেড পণ্য কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এদিকে শহরের হাটখোলা রোডের বিভিন্ন দোকানেও কোরবানির সরঞ্জাম কিনতে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সেখানে রেডিমেড চাপট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, দা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়, বটি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় এবং ছুরি ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

ঈদকে ঘিরে বাড়তি কর্মব্যস্ততা কামারদের মুখে কিছুটা হাসি ফিরিয়ে আনলেও, পেশাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে তাদের মধ্যে।