০৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

যশোরে গাড়ি আটকের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি পুলিশের, সংবাদ সম্মেলন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৫১২

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ একটি ব্যক্তিগত গাড়ি অবৈধভাবে আটকে রেখেছে—এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ এর যশোর জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার যশোরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম এ দাবি করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি বলেন, মাগুরার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হীরা খাতুন সম্প্রতি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার আটক করে অবৈধভাবে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ রাতে এক ব্যক্তি কোতোয়ালি থানায় ফোন করে জানান, থানার বিপরীত পাশে রিচম্যান পোশাকের শোরুমের সামনে একটি রেড ওয়াইন রঙের Toyota C-HR Hybrid দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে গাড়িটি বেওয়ারিশ হিসেবে জব্দ করে এবং পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, পরে হীরা খাতুন থানায় এসে গাড়িটির মালিকানা দাবি করেন। তবে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে আইনগতভাবে গাড়িটি জিম্মায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এখন পর্যন্ত তিনি আদালতের কোনো আদেশনামা কিংবা গাড়ির বৈধ কাগজপত্র থানায় জমা দেননি বলে দাবি পুলিশের। এ কারণে গাড়িটি ফেরত না দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হীরা খাতুন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ এর মাগুরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তার স্বামী মো. আলী হাসান আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান।

উল্লেখ্য, সোমবার ঢাকার ক্র্যাব মিলনায়তন এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন অভিযোগ করেন, যশোরের একটি স্বর্ণ পাচার চক্রের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার স্বামী আলী আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুবদল নেতা আনসারুল হক রানা ও ‘গোল্ড শহীদ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি তার স্বামীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন চাপ সৃষ্টি করেন। এর প্রভাবে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি তার স্বামী স্ট্রোকে মারা যান বলেও দাবি করেন তিনি।

হীরা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, পরে তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে প্রাইভেটকারসহ তুলে নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল এর মাগুরা জেলা সভাপতি ওয়াকিসকুর রহমান কল্লোল এর সহযোগিতায় ছেলে ও গাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে গাড়িটি যশোর কোতোয়ালি থানায় জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে যশোর জেলা পুলিশ।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন ২০২৬: সিনিয়র সভাপতি পদপ্রার্থী নজরুল ইসলামকে শুভেচ্ছা ও দোয়া

যশোরে গাড়ি আটকের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি পুলিশের, সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ০৫:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ একটি ব্যক্তিগত গাড়ি অবৈধভাবে আটকে রেখেছে—এমন অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ এর যশোর জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার যশোরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম এ দাবি করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি বলেন, মাগুরার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হীরা খাতুন সম্প্রতি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তার ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার আটক করে অবৈধভাবে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ রাতে এক ব্যক্তি কোতোয়ালি থানায় ফোন করে জানান, থানার বিপরীত পাশে রিচম্যান পোশাকের শোরুমের সামনে একটি রেড ওয়াইন রঙের Toyota C-HR Hybrid দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে গাড়িটি বেওয়ারিশ হিসেবে জব্দ করে এবং পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, পরে হীরা খাতুন থানায় এসে গাড়িটির মালিকানা দাবি করেন। তবে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে আইনগতভাবে গাড়িটি জিম্মায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এখন পর্যন্ত তিনি আদালতের কোনো আদেশনামা কিংবা গাড়ির বৈধ কাগজপত্র থানায় জমা দেননি বলে দাবি পুলিশের। এ কারণে গাড়িটি ফেরত না দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হীরা খাতুন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ এর মাগুরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তার স্বামী মো. আলী হাসান আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান।

উল্লেখ্য, সোমবার ঢাকার ক্র্যাব মিলনায়তন এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হীরা খাতুন অভিযোগ করেন, যশোরের একটি স্বর্ণ পাচার চক্রের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার স্বামী আলী আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুবদল নেতা আনসারুল হক রানা ও ‘গোল্ড শহীদ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি তার স্বামীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকার সোনা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন চাপ সৃষ্টি করেন। এর প্রভাবে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি তার স্বামী স্ট্রোকে মারা যান বলেও দাবি করেন তিনি।

হীরা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, পরে তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে প্রাইভেটকারসহ তুলে নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল এর মাগুরা জেলা সভাপতি ওয়াকিসকুর রহমান কল্লোল এর সহযোগিতায় ছেলে ও গাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে গাড়িটি যশোর কোতোয়ালি থানায় জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে যশোর জেলা পুলিশ।