যশোর সদর উপজেলার কামালপুর গ্রামে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুই কর্মচারী নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন। সোমবার দুপুরে সংঘটিত এই ঘটনায় পুলিশ তিন নারীকে আটক করেছে। হামলায় গুরুতর আহত এক লাইনম্যানকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামালপুর গ্রামের গ্রাহক আব্দুস সালামের তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। সোমবার দুপুরে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর লাইনম্যান **অরিন্দম মণ্ডল** ও **জিতু টিকাদার** ওই বাড়িতে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে কর্মচারীদের ওপর চড়াও হন।
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়:
অভিযুক্ত মামুন নামের এক ব্যক্তি লাইনম্যান অরিন্দম মণ্ডলকে ছুরিকাঘাত করেন।
লোহার রড দিয়ে জিতু টিকাদারকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই কর্মচারীকে একটি ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
পরবর্তীতে আহতরা মোবাইল ফোনে পল্লী বিদ্যুতের এজিএম (প্রশাসন) মো. মনিরুজ্জামান খাঁনকে বিষয়টি জানালে তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।
এই ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মনিরুজ্জামান খাঁন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে:
জাহানারা খাতুন** (গ্রাহক আব্দুস সালামের স্ত্রী)
শারমিন খাতুন** (মেয়ে)
সুর্মি সওদাগর** (মেয়ে)
মামলার অন্য তিন আসামি—আব্দুস সালাম, মামুন এবং আব্দুর রহিম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, আটক তিন নারীকে সোমবার বিকেলেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
–
বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকা এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা একটি নিয়মিত দাপ্তরিক প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে যদি কোনো গ্রাহকের আপত্তি থাকে, তবে তিনি আইনি বা দাপ্তরিক পথে অভিযোগ জানাতে পারতেন। কিন্তু কর্মচারীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং তাদের আটকে রাখা স্পষ্টত আইনের লঙ্ঘন।
মাঠ পর্যায়ে কর্মরত বিদ্যুৎ বা সেবা খাতের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের হামলা কর্মীদের মনোবল কমিয়ে দেয় এবং সেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটায়।
ছুরিকাঘাতের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মচারীদের ওপর কেউ এ ধরনের হামলা করার দুঃসাহস না দেখায়।
সামগ্রিকভাবে, সাধারণ মানুষের উচিত যেকোনো বিরোধে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে আলাপ-আলোচনা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দারস্থ হওয়া।





















