০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবার হামে শিশুমৃত্যু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৬

চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রথমবারের মতো হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত শিশুটির নাম হুমাইরা খাতুন। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের নিমতলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন ইকবাল আহমেদের কন্যা।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল-এর ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুস সাকিব জানান, জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। তিনি বলেন, শিশুটির নমুনা ঢাকায় পাঠানো হলে পরীক্ষায় হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে হুমাইরাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল তাকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ২৩ এপ্রিল তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ি নেওয়ার পরদিন, শুক্রবার সকালে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্রুত তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা খুব দ্রুত দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, জ্বর-কাশি-চামড়ায় ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হুমাইরার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও একটি সতর্কবার্তা। হামের বিস্তার রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে পথসভা ও শুভেচ্ছা মিছিল

চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবার হামে শিশুমৃত্যু

আপডেট: ০৬:০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রথমবারের মতো হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত শিশুটির নাম হুমাইরা খাতুন। সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের নিমতলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন ইকবাল আহমেদের কন্যা।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল-এর ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুস সাকিব জানান, জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। তিনি বলেন, শিশুটির নমুনা ঢাকায় পাঠানো হলে পরীক্ষায় হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে হুমাইরাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৯ এপ্রিল তাকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ২৩ এপ্রিল তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ি নেওয়ার পরদিন, শুক্রবার সকালে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্রুত তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা খুব দ্রুত দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৫০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, জ্বর-কাশি-চামড়ায় ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হুমাইরার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও একটি সতর্কবার্তা। হামের বিস্তার রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।