আজ ২৫শে মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত আর নৃশংসতম অধ্যায়ের স্মৃতিবাহী দিন। ১৯শে মার্চ ১৯৭১-এর সেই উত্তাল দিনশেষে নেমে আসা অন্ধকারে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি কী ভয়ংকর বিভীষিকা অপেক্ষা করছে নিস্পাপ বাঙালিদের জন্য। যখন তিলোত্তমা ঢাকা শহর ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নরকের দুয়ার খুলে দিয়েছিল দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
রাত সাড়ে ১১টা। সেনানিবাস থেকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক আর অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে বের হয় কাপুরুষ পাকিস্তানি বাহিনী। তাদের লক্ষ্য ছিল নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষ। রাইফেল, মেশিনগান আর মর্টারের গর্জনে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ঢাকার আকাশ-বাতাস। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে নিরীহ মানুষের আর্তনাদ আর আগুনের লেলিহান শিখা। মানব সভ্যতার ইতিহাসে রচিত হয় এক কলঙ্কময় অধ্যায়।
অস্ট্রেলিয়ার ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ পত্রিকার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই কালরাতেই প্রায় এক লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এমনকি পাকিস্তান সরকারের নিজস্ব শ্বেতপত্রেও ১লা মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত এক লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানির কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হয়েছে।
দীর্ঘ ৪৬ বছর পর, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়। বর্তমানে এই নৃশংসতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘেও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
মধ্য দিয়েই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের পরম আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। কাল সেই গৌরবময় মহান স্বাধীনতা দিবস।




















