সুদানের গৃহযুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশটির পূর্ব দারফুর অঞ্চলের একটি হাসপাতালে চালানো নৃশংস হামলায় অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন শিশু এবং ৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই বর্বরোচিত হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার রাতে পূর্ব দারফুরের রাজধানী আল-দাইন শহরের একটি শিক্ষণ হাসপাতালে এই হামলা চালানো হয়। ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস সামাজিক মাধ্যমে জানান যে, নিহতদের মধ্যে হাসপাতালের রোগী ছাড়াও দুইজন নারী নার্স এবং একজন পুরুষ চিকিৎসক রয়েছেন। এই হামলায় আরও অন্তত ৮৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
হামলার তীব্রতায় হাসপাতালটির গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে:
* শিশু বিভাগ ও মাতৃত্বকালীন ইউনিট: সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মা ও শিশুদের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে।
* জরুরি বিভাগ: বোমার আঘাতে জরুরি বিভাগটি অকেজো হয়ে পড়েছে।
* সেবা কার্যক্রম: বর্তমানে পুরো হাসপাতালটি অচল হয়ে পড়ায় আল-দাইন শহরের জরুরি চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
> “যুদ্ধের ময়দানে হাসপাতালের মতো নিরাপদ আশ্রয়ে হামলা চালানো অমানবিক। এটি কেবল মানুষকে হত্যা করা নয়, বরং বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকু কেড়ে নেওয়া।” — তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস, প্রধান, ডব্লিউএইচও।
>
২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে। ডব্লিউএইচও-র তথ্যমতে:
* চলমান সংঘাতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে হামলায় এ পর্যন্ত ২,০০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
* কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
* দেশজুড়ে চরম খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ডব্লিউএইচও প্রধান অবিলম্বে স্বাস্থ্যকর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র মতে, এই হামলা সুদানের মানবিক সংকটকে আরও গভীরতর করবে।




















