পবিত্র ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো কুমিল্লায়। মধ্যরাতে রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি যাত্রীবাহী বাসকে ট্রেনের ধাক্কায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘ওয়ান আপ’ ট্রেনটি পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামমুখী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, ট্রেনটি বাসটিকে ঠেলে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ট্রেনের ইঞ্জিনের মাথায় আটকে থাকা অবস্থায় বাসটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার অভিযান ও হতাহত
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহত অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি ১০ জনের পরিচয় এখনো মেলেনি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ও ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ:
* রেলক্রসিংয়ে অবহেলা: স্থানীয়দের দাবি, রেলগেটের সিগন্যাল ম্যানের চরম গাফিলতির কারণেই বাসটি রেললাইনে উঠে পড়েছিল।
* জরুরি সেবায় বিলম্ব: ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, দুর্ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ বারবার কল দিলেও কেউ সাড়া দেয়নি, যা নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ক্রসিংয়ে কোনো সিগন্যাল না থাকায় চালক বাসটি নিয়ে লাইনে উঠে পড়েছিলেন।
কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। বর্তমানে ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ঈদের রাতে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে।




















