দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক উত্তজনা ও অভিযানের পর অবশেষে নমনীয় সুর শোনা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে আমরা গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। কারণ, আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) আশাতীত সাফল্য পেয়েছে।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান
ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে জানান, এই মিশনটি সফল করতে পেন্টাগন ও প্রেসিডেন্ট আগেই ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের একটি সময়সীমার আভাস দিয়েছিলেন। ফলে বর্তমান তৎপরতা সেই পরিকল্পনারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় চাপে রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ শুক্রবার একটি সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করেছে। এর ফলে ২০ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কেনাবেচা ও খালাস করা যাবে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে আসবে, যা জ্বালানি সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে। সরাসরি সামরিক বিজয় ঘোষণা করে সম্মানজনকভাবে সংঘাত থেকে সরে আসার পথ খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে তেহরান এই পুরো বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে।




















