যশোরের শার্শা উপজেলায় গত প্রায় দেড় বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পগুলোর আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি তুলেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
২০২৫ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থিরতার সুযোগে শার্শার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বহীন ছিলেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদগুলো সচিব ও প্রশাসকদের মাধ্যমে এবং উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ইউএনও ও পিআইও’র সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তদারকির অভাবে এই সময়ে রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজে চরম অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজে বালু ব্যবহারের পরিবর্তে সরাসরি মাটির ওপর ইট বিছানোর মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের ব্রিজ নির্মাণ এবং বিভিন্ন এলাকায় লাইটিং স্থাপনের কাজেও হরিলুটের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করায় জনমনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, গত দেড় বছরে যে সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, তার প্রতিটি খাতের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শুধুমাত্র হিসাব প্রকাশই যথেষ্ট নয়, বরং পিআইও’র মাধ্যমে যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজগুলো পেয়েছে, তাদের কাজের মানও তদন্ত করা প্রয়োজন। অনিয়মের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা গেলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নতুন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিগত দিনের অনিয়মের হিসাব নিকাশ গ্রহণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শার্শা উপজেলাকে সুশাসনের মডেলে রূপান্তর করবেন তাঁরা।
০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম:
শার্শায় দেড় বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়মের অভিযোগ: শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি এলাকাবাসীর
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ০৮:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- ৫০৮
সর্বাধিক পঠিত




















