দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আজ বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে আজ এই রায় দেওয়া হয়। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।
এর আগে গত ৮ মার্চ হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা মামলা এবং রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ পৃথক চার মামলায় তাকে জামিন দিয়েছিলেন। আজকের আদেশের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা পাঁচটি মামলাতেই জামিন পেলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট সাবেক এই প্রধান বিচারপতির জামিন বিষয়ে রুল জারি করেছিলেন। রায় জালিয়াতি ও দুদকের করা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলায় তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত আজ এই সিদ্ধান্ত জানান।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলেই সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় আসে, যা দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির পথ প্রশস্ত করে।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
* জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলা।
* নারায়ণগঞ্জে দায়েরকৃত বেআইনি ও জাল রায় তৈরির অভিযোগের মামলা।
* দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতির মামলা।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সবকটি মামলায় জামিন পাওয়ায় এখন তার কারাগার থেকে মুক্তির পথ সুগম হলো।




















