ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের নাম। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত শাহীন চাকলাদার বর্তমানে কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় অবস্থান করছেন—যা নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাসে কলকাতার নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিম আনারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই শাহীন চাকলাদারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং তিনি জনসমক্ষ থেকে আড়ালে চলে যান। তবে নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, তাকে কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি বহুতল ভবনে নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে। ওই ভবনে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের আনাগোনা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের পাহাড়
শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে কেবল আনার হত্যাকাণ্ডই নয়, যশোর সদর ও কেশবপুর এলাকায় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও জমি দখলের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
: ২০১৯ সালে এক হিন্দু ব্যক্তির জমি দখলের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: অভিযোগ রয়েছে, দখলকৃত জমিতে মাদ্রাসা নির্মাণ করে সেখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো।
তবে এসব অভিযোগের কোনো বিচারিক নিষ্পত্তি এখন পর্যন্ত হয়নি।
‘রাঘববোয়াল’ নিয়ে ডরিনের বিস্ফোরক মন্তব্য
পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে শুরু থেকেই সোচ্চার রয়েছেন আনোয়ারুল আজিম আনারের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। অভিযুক্তের অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর তিনি বলেন:
>”আমার পিতার হত্যার পেছনে দলের ভেতরের বড় বড় রাঘববোয়ালরা জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং অর্থায়নে যারা ছিল, তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে—এটা মানা যায় না। আমি চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
বিদেশের মাটিতে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে স্পর্শকাতর। শাহীন চাকলাদারের মতো একজন অভিযুক্ত যদি সত্যিই কলকাতায় অবস্থান করেন, তবে তিনি কীভাবে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে সেখানে অবস্থান করছেন, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলে এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মামলার মোড় নতুন দিকে ঘুরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




















