১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ-এর জন্মদিন আজ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৯

আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার অকুতোভয় সেনানী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ-এর জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা (বর্তমানে নূর মোহাম্মদনগর) গ্রামে এক কৃষক পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মা জেন্নাতুন্নেছার এই সন্তান শৈশবেই মাতাপিতাকে হারিয়ে জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হন।

১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ নূর মোহাম্মদ শেখ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এ যোগ দেন, যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭০ সালে তিনি যশোর সেক্টরে বদলি হন এবং ল্যান্স নায়েক পদে উন্নীত হন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্বদেশের টানে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যশোর অঞ্চলের ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে বয়রা অঞ্চলে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন তিনি।

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুর সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হন।
* বিস্ময়কর সাহসিকতা: নূর মোহাম্মদ নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে একদিকে কাঁধে আহত নান্নু মিয়াকে বহন করেন, অন্যদিকে হাতে থাকা এলএমজি দিয়ে অবিরাম গুলি ছুঁড়ে শত্রুপক্ষকে তটস্থ রাখেন।
* শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই: পাকিস্তানি বাহিনীর ছোঁড়া একটি মর্টার শেলের আঘাতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। শরীর ক্ষতবিক্ষত হওয়া সত্ত্বেও তিনি পিছু হটেননি। সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা ও অস্ত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তিনি একাই লড়ে যান এবং যুদ্ধরত অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন।
> “বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের দেশপ্রেম ও অসীম সাহস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। তাঁর আত্মত্যাগই আজ আমাদের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবান্বিত করে রেখেছে।”

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে এই বীর যোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়। প্রতি বছর এই দিনে তাঁর জন্মভিটা নড়াইল এবং সমাধি স্থল শার্শায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত

মহাকাশে বিরল ‘প্ল্যানেট প্যারেড’: শনিবার এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ-এর জন্মদিন আজ

আপডেট: ১০:২৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার অকুতোভয় সেনানী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ-এর জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা (বর্তমানে নূর মোহাম্মদনগর) গ্রামে এক কৃষক পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মা জেন্নাতুন্নেছার এই সন্তান শৈশবেই মাতাপিতাকে হারিয়ে জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হন।

১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ নূর মোহাম্মদ শেখ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এ যোগ দেন, যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭০ সালে তিনি যশোর সেক্টরে বদলি হন এবং ল্যান্স নায়েক পদে উন্নীত হন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্বদেশের টানে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যশোর অঞ্চলের ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে বয়রা অঞ্চলে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন তিনি।

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুর সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হন।
* বিস্ময়কর সাহসিকতা: নূর মোহাম্মদ নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে একদিকে কাঁধে আহত নান্নু মিয়াকে বহন করেন, অন্যদিকে হাতে থাকা এলএমজি দিয়ে অবিরাম গুলি ছুঁড়ে শত্রুপক্ষকে তটস্থ রাখেন।
* শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই: পাকিস্তানি বাহিনীর ছোঁড়া একটি মর্টার শেলের আঘাতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। শরীর ক্ষতবিক্ষত হওয়া সত্ত্বেও তিনি পিছু হটেননি। সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষা ও অস্ত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তিনি একাই লড়ে যান এবং যুদ্ধরত অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন।
> “বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের দেশপ্রেম ও অসীম সাহস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। তাঁর আত্মত্যাগই আজ আমাদের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবান্বিত করে রেখেছে।”

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে এই বীর যোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়। প্রতি বছর এই দিনে তাঁর জন্মভিটা নড়াইল এবং সমাধি স্থল শার্শায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়।