২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি আজ মঙ্গলবার। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) বিষয়টি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও অন্য একটি অভিযোগে আৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে, অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় সকল অভিযোগেই তারা সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য।
গত ১৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ সাজা বৃদ্ধির আবেদনটি দাখিল করে। আপিল আবেদনে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে, যার ভিত্তিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজাটিকেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়েছে।
> “নজিরবিহীন এই গণহত্যাকাণ্ডে নির্দেশদাতা এবং পরিকল্পনাকারী হিসেবে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমৃত্যু কারাদণ্ড এখানে পর্যাপ্ত নয় বলেই আমরা আপিল করেছি।” — রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন সূত্র
>
পলাতক আসামি: ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল বিদেশে পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
* রাজসাক্ষী: একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন মামলার তদন্তে সহযোগিতা ও রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে আদালত মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
আজকের এই শুনানির দিকে দেশবাসীর বিশেষ নজর রয়েছে, কারণ জুলাই-আগস্টের স্মৃতি ও বিচারপ্রক্রিয়া বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।




















