ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেল আহমেদ নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার রুবেলকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর মতিঝিলে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুষ্কৃতকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদি মারা যান। এরপর ঘটনাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিলেও তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:
* ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ (প্রধান অভিযুক্ত)
* সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি
* মো. হুমায়ুন কবির, হাসি বেগম ও অন্যান্য সহযোগী।
আদালত আগামী ২৫ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।





















