ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডুতে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে অপহরণের পর ভোলা জেলার একটি হিজড়া পল্লীতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অপহৃত শিশুর আপন চাচি ও চাচাতো ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অপহৃত শিশুটির নাম ইসারুল্লাহ রিয়াদ (১৩)। সে উপজেলার শীতলী রোকেয়া খাতুন হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং মান্দারতলা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জানুয়ারি সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে শীতলী মাঠ এলাকা থেকে রিয়াদকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয় তার আপন চাচাতো ভাই সুমন ও চাচি শ্যামলী খাতুন। এরপর তাকে ভোলা জেলার একটি হিজড়া পল্লীতে বিক্রি করে দিয়ে তারা এলাকায় ফিরে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে থাকে।
রিয়াদের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সুমনের কাছে জানতে চাওয়া হলে সে উল্টো রিয়াদের বাবাকে মারধর করে। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় এবং তারা থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন।
পুলিশের অভিযান ও আইনি পদক্ষেপ
হরিনাকুন্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান:
* রিয়াদের দাদা শামছুল রহমান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
* পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শ্যামলী খাতুন (শরিফুল ইসলামের স্ত্রী) ও তার ছেলে সুমনকে আটক করে।
* প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান
ওসি আরও জানান, নিখোঁজ শিশু রিয়াদকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম অতি শীঘ্রই ভোলা জেলায় অভিযান পরিচালনা করবে।





















